ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রায় ৬০ জন এমপি ও লর্ড (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্স ও উচ্চকক্ষ লর্ড সভার সদস্য)।
এক যৌথ চিঠিতে এ আহ্বান জানান ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা। পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির জন্য সরকার যে লাইসেন্স ইস্যু করে, তার ব্যাপারে আরও স্বচ্ছতা আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, গাজা যুদ্ধের বিরোধিতা ও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে কারও ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছে, কাউকে কোর্স থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কাউকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। তীব্র খাদ্যসংকটে বাড়ছে অনাহারে মৃতের সংখ্যা। গতকাল বুধবার গাজায় অনাহারে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অনাহারে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে, যার মধ্যে ৮০ জনই শিশু। গত ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ও বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডসের কাছে পাঠানো চিঠিতে ব্রিটেনের প্রায় ৬০ জন এমপি ও লর্ড ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান। এর আগেই ল্যামি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতিতে না এলে ইসরায়েলের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ইতিমধ্যে ব্রিটেন ফিলিস্তিনিদের মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার জন্য অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্সসহ ২৭টি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে ইসরায়েলের নিন্দা এবং দেশটির প্রতি ফিলিস্তিনের গাজায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী এমপি ও লর্ডদের দাবি, ইসরায়েলে অবিলম্বে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ না করলে ব্রিটিশ সরকার গণহত্যায় সহায়তাকারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পার্লামেন্টের এই সদস্যদের কয়েকজন হলেন জারাহ সুলতানা, জন ম্যাকডোনেল ও জেরেমি করবিন। চিঠির সমন্বয় করা লেবার এমপি স্টিভ উইদারডেন বলেন, ইসরায়েল গাজা মিশিয়ে দিতে যেসব যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, সেগুলোর ১৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ ব্রিটেনে তৈরি। এ বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্রিটিশ সরকারের রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়া এ যুদ্ধবিমানগুলো উড়তে পারত না, বোমা ফেলতে পারত না। গত মঙ্গলবার আইটিভির গুড মর্নিং ব্রিটেন অনুষ্ঠানে ল্যামি বলেন, গত কয়েক মাসে আমরা একাধিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছি। ইসরায়েলের আচরণে পরিবর্তন না এলে এবং মানুষের দুর্দশার অবসান ঘটানো না হলে ভবিষ্যতে সব ধরনের বিকল্প গ্রহণ করার কথা বিবেচনায় আছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৮০ শিক্ষার্থীকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে। কারও ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছে, কাউকে কোর্স থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কাউকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলো মূলত বাটলার লাইব্রেরি দখল এবং ২০২৪ সালের অ্যালামনাই উইকেন্ড উপলক্ষে ক্যাম্পাসে হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বিঘœ ঘটানো নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যার পরিণতি অবশ্যই শাস্তিমূলক হবে।
শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি অ্যাপার্থাইড ডাইভেস্ট (সিইউএডি) জানায়, আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের অনেককেই এক বছরের বেশি সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে অথবা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিইউএডি বলছে, এ ধরনের শাস্তি অতীতে অন্য কোনো শিক্ষামূলক বা সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। তবে আমরা ভীত নই। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে আমাদের অবস্থান অটল। ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ বিক্ষোভ বিশ্বের অনেক দেশে গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার পাশাপাশি তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে গাজার বাসিন্দারা। অনাহার-অর্ধাহারে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে উপত্যকাটির অসহায় শিশুদের। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২১ মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের সময় উপত্যকাটিতে অপুষ্টিতে ভুগে ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ জনই শিশু। গতকাল গাজায় অনাহারে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।