ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল একই পরিবারের ৮ জনের

নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের শ্রীরামপুর আইড়মারী ব্রিজ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের বাসিন্দা এবং পরস্পর আত্মীয়। তারা সিরাজগঞ্জে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিহতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী শেলী বেগম ওরফে সেলিনা খাতুন (৪৫), আনোয়ারা বেগম (৫৫), আনোয়ারা খাতুন আনু (৫০), রওশন আরা আক্তার ইতি (৪৮), আঞ্জুমানয়ারা খাতুন (৬৩), সীমা খাতুন (৩০) এবং মাইক্রোবাস চালক শাহাবুদ্দিন সাবু (৪০-৪২)।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরাজগঞ্জে প্রবাসী ছেলের অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতক নাতিকে দেখতে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪৮৬৪) উল্টোপথে চলে এসে তাদের মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো চ ১৬-৯৭৯২) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ করে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। আহত তিনজনের মধ্যে একজন বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকি দুজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দুর্ঘটনার খবরে ধর্মদহ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত জাহিদুলের চাচাতো ভাই মানজারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জাহিদুলের পুরো পরিবারই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাড়িতে শোকার্ত স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে কান্নার রোল চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, মাইক্রোবাসটি তার সঠিক লেনে ছিল, কিন্তু ট্রাকটি উল্টো লেনে চলে আসায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।

দৌলতপুর থানার ওসি সোলায়মান শেখ জানান, আদাবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে মরদেহ এখনো ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, এ ঘটনা এলাকায় গভীর শোক ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।