যুদ্ধের হিসাব বদলাচ্ছে গুপ্তচর তেলাপোকা

ইউরোপের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ জার্মানির ‘হেলসিং’। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর স্টার্টআপটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা গুন্ডবার্ট শার্ফের দৃষ্টিতে সবকিছু যেন বদলে গিয়েছিল। চার বছর আগে সামরিক ড্রোন ও যুদ্ধক্ষেত্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তৈরি করে এমন কোম্পানি শুরুর জন্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শার্ফকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল। তবে কোম্পানিতে বিনিয়োগের বিষয়টি এখন শার্ফের জন্য কোনো সমস্যার বিষয় নয়। কারণ, গত মাসে মিউনিখে অবস্থিত তার কোম্পানির মূল্য দেড় গুণ বেড়ে বর্তমানে তা এক হাজার দুইশো কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। শার্ফ বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা খাতের প্রযুক্তি কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে ইউরোপ। কেবল গুন্ডবার্ট শার্ফের স্টার্টআপ নয়। গত কয়েক বছরে অনেক বদলেছে ইউরোপের প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক বোঝাপড়া।

এ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানির সাবেক অংশীদার শার্ফ বলেছেন, ইউরোপ সম্ভবত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এমন বড় এক পরিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেটি ম্যানহাটন প্রজেক্টের মতো হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নিয়ে গিয়েছিল এই ম্যানহাটন প্রজেক্ট। প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ হেলসিং ট্যাংকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোবট, মনুষ্যবিহীন মিনি-সাবমেরিন থেকে শুরু করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত গুপ্তচর তেলাপোকা পর্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করছে স্টার্টআপটি, যা বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের হিসাবনিকাশ।

এসব উন্নয়নের অধীন কিছু ধারণা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো শোনাতে পারে। যেমন ‘সোয়ার্ম বায়োট্যাকটিক্স’ কোম্পানির তৈরি সাইবর্গ তেলাপোকা, যেগুলোর ছোট ছোট বিশেষ ধরনের ব্যাকপ্যাক রয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যামেরা ব্যবহার করে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এরা।

বিদ্যুৎ সংকেতের মাধ্যমে দূর থেকে এসব তেলাপোকার চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে মানুষ। এর উদ্দেশ হচ্ছে, প্রতিকূল পরিবেশে নজরদারির তথ্য সরবরাহ করা, যেমন শত্রুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য মিলবে এতে। ‘সোয়ার্ম বায়োট্যাকটিক্স’ কোম্পানির সিইও স্টেফান উইলহেল্ম বলেছেন,           ‘আমাদের এসব বায়ো রোবট জীবন্ত পোকামাকড়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেগুলো স্নায়ু উদ্দীপনা, সেন্সর ও সুরক্ষিত যোগাযোগ প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো রয়েছে। এগুলোকে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জোট বেঁধেও চলতে পারে এরা।’

রয়টার্স লিখেছে, ২০ শতকের প্রথমার্ধে ব্যালিস্টিক মিসাইল, জেট বিমান ও নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রসহ অনেক সামরিক প্রযুক্তিতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রেখেছিলেন জার্মান বিজ্ঞানীরা, যেগুলো পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জার্মানিকে সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং তাদের এই বৈজ্ঞানিক প্রতিভা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক শক্তিশালী চালক হিসেবে কাজ করছে প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবন। ইন্টারনেট, জিপিএস, সেমিকন্ডাক্টর ও জেট ইঞ্জিনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রথমে সামরিক গবেষণা থেকে এসেছে, এরপর সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে সেগুলো।