ফ্যাশনে ফারসি সালোয়ার

 গত বছরের শেষটাতে এশিয়ার ফ্যাশন ট্রেন্ডে কামিজের সঙ্গে মেয়েদের যে সালোয়ার পরতে দেখা গেছে তার নাম ফারসি সালোয়ার। দেশের ফ্যাশন ট্রেন্ডে এ ধরনের সালোয়ারের হাওয়া লেগেছে। কোন ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানানসই সেটা জানাও জরুরি। ফারসি সালোয়ার নিয়ে লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

ফ্যাশনের ট্রেন্ডটা অনেকটা রিসাইকেলের মতো ঘুরে ফিরে আসে। ফ্যাশনে নতুন নতুন ধারার পাশাপাশি বহু বছর আগের কোনো ট্রেন্ডকেও আবার ফিরে আসতে দেখা যায় হরহামেশাই। এ বছরের শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে ঢিলেঢালা ফারসি সালোয়ারের ট্রেন্ড। মোগল আমলে অভিজাত নারীদের ছবিগুলোর পোশাক খেয়াল করলে দেখবেন তারা এ ধরনের সালোয়ার পরছেন। যাকে মূলত এ সময়ে ফারসি সালোয়ার বলে। ফারসি সালোয়ারের নামটি এসেছে ফারসি শব্দ ‘ফার্স’ থেকে, যার অর্থ মেঝে। এই সালোয়ার লম্বায় সাধারণ সালোয়ারের চেয়ে বেশ বড় হওয়ায় এটি পরলে প্রায় মাটি ছুঁয়ে যায় বলেই এমন নাম।

নকশায় বৈচিত্র্য

কো-অর্ড সেটের মতো একই নকশা আর উপকরণে তৈরি কামিজের সঙ্গে ফারসি সালোয়ার পরছেন অনেকেই। ডিজাইনার সাফিয়া সাথীর ফারসি সালোয়ার নিয়ে বললেন, কিছুদিন আগেই এসেছে ফারসি সালোয়ার। মানুষ ধীরে ধীরে আবার এই সালোয়ারের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। ঢিলেঢালা আর আরামদায়ক হওয়ায় গরমে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ফারসি সালোয়ার। সাধারণত কো-অর্ড সেটের মতো একই নকশা আর উপকরণে তৈরি কামিজের সঙ্গে ফারসি সালোয়ার পরতে দেখা যাচ্ছে। তবে ভিন্নতা আনতে অনেকেই সালোয়ার আর কামিজের নকশা আলাদা রাখছেন। ফারসি সালোয়ারের সঙ্গে যে টপ বা কামিজ পরা হবে দৈর্ঘ্যে তা কিছুটা ছোট হতে হবে। অনেকেই টি-শার্ট দিয়েও এ ধরনের সালোয়ার পরছেন। ফারসি সালোয়ারের সঙ্গে পরা কামিজের নিচে দেখা যায় কাবলি পোশাকের মতো গোল কাট। ক্লাব হাউজের ফ্যাশন ডিজাইনার ইফতেখারুল ইসলাম জানান, ফারসি সালোয়ারের সঙ্গে যে টপ বা কামিজ পরা হয় দৈর্ঘ্যে তা কিছুটা ছোট হতে হবে। এতে সালোয়ারের কুচিগুলো ভালোভাবে বোঝা যাবে। চাইলে পছন্দের গজ কাপড় কিনে বানিয়ে নিতে পারেন ফারসি সালোয়ার। সে ক্ষেত্রে লিনেন, ধুপিয়ান সিল্ক, তসর সিল্ক অথবা রেমি কটনের কাপড় দিয়ে বানালে ভালো দেখাবে।

এ ধরনের সালোয়ারের প্রতি সবার আগ্রহ বাড়ার কারণ আরামদায়ক ও বাতাস চলাচল উপযোগী। বিভিন্ন বডি টাইপে মানানসই এই সালোয়ার। লম্বা, খাটো বা প্লাস সাইজ সব ধরনের শরীরের জন্য উপযুক্ত। ডিজাইন ও রঙের বৈচিত্র্য প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, ব্লক বা ডিজিটাল প্রিন্ট সব ধরনের নকশাই করা যায় এ ধরনের সালোয়ারে। স্ট্রেইট কাট কামিজের সঙ্গেই ফারসি সালোয়ার বেশি মানায়। যা কলেজ থেকে অফিস সবখানেই পরে যেতে পারবেন। ফারসি  সালোয়ারের রঙ একটু হাল্কা হলে কামিজটি গাঢ় রঙের মানাবে।  অর্থাৎ কনট্রাস্ট লুক তৈরি করবে। কটন, লিনেন বা রেয়ন ফেব্রিক বেছে নিন গরমের জন্য। সিল্ক বা জামদানি কাজের কামিজ বেছে নিতে পারেন ফারসি সালোয়ারের সঙ্গে। ফারসি সালোয়ারে জারদৌসি বা সিকোয়েন্স ওয়ার্ক থাকলে আরও জমকালো দেখায়। ক্যাজুয়াল ফরমাল দুধরনের লুকেই ফারসি সালোয়ার মানাবে।

ফারসি সালোয়ার তৈরিতে

ফারসি সালোয়ার বানাতে কাপড়ের পরিমাণ নির্ভর করে মূলত শরীরের মাপ, ডিজাইন কতটা ঘেরওয়ালা হবে ও সালোয়ারের দৈর্ঘ্য কতটুকু হবে তার ওপর। তবে হাল্কা ঘের দেওয়া অর্থাৎ ৮ থেকে ১০ কলি দেওয়া সালোয়ার বানাতে ২.৫ গজ বা ২.২৫ মিটার কাপড়ের দরকার হবে। বেশি ঘের দেওয়া ১২ থেকে ১৬ কলির সালোয়ারের জন্য ৩ থেকে ৩.৫ গজ এবং ২.৭৫ থেকে ৩.২৫ মিটার কাপড়ের দরকার হবে। যদি বেশি প্লিট বা কুঁচি চান, তাহলে আরও ০.৫ গজ বেশি রাখাই ভালো। কোমরের পট্টির জন্যও একটু বাড়তি কাপড় প্রয়োজন হতে পারে। তুলনামূলকভাবে মোটা বা লম্বা ব্যক্তির জন্য কাপড়ের পরিমাণ ০.২৫ থেকে ০.৫ গজ বাড়িয়ে কিনতে পারেন।

কোথায় পাবেন

ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড সব ধরনের ফ্যাশন হাউজ ফারসি সালোয়ার পাবেন। কামিজসহ সালোয়ার কিনতে পারবেন সুুতির ১৫০০ টাকার মধ্যে। আর একটু নকশাদার সিনথেটিক কাপড়ের কিনতে চাইলে দাম পড়বে ২০০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। দেশি ফ্যাশন হাউজ দেশাল, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জনস ও বিবিয়ানায় এই ধরনের ফারসি সালোয়ার পাবেন। এ ছাড়া অনলাইন বিভিন্ন  পেজেও ফারসি কিনতে পারবেন।