নেত্রকোনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসন্ন সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আগামীকাল রবিবার শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার পুরাতন কালেক্টরাল মাঠে সকালে এনসিপির পথসভা ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সমাবেশকে ঘিরে জেলা পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সমাবেশের জন্য শহরে চার শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে বাইরের জেলা থেকে ৬৬ জন পুলিশ সদস্য নেত্রকোনায় আগমন করবেন। এই পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য নেত্রকোনা পুলিশ লাইনসে ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই সমাবেশের আগে একটি স্কুলের বন্ধ ঘোষণা ও পরীক্ষা স্থগিতের নোটিস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই নেত্রকোনার কুড়পাড় এলাকার পুলিশ লাইনস স্কুলের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ উপলক্ষে বাইরে থেকে আসা পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইনস স্কুলে অবস্থান করবেন। ফলে ২৭ ও ২৮ জুলাই স্কুল বন্ধ থাকবে এবং ২৭ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষা ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেন।
তবে, এই বিজ্ঞপ্তির পরপরই গতকাল সকালে পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক একটি প্রতিবাদপত্র প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২৭ ও ২৮ জুলাই স্কুল যথারীতি খোলা থাকবে এবং নির্ধারিত পরীক্ষাগুলোও নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দাবি করেন, কেউ তার স্বাক্ষর নকল করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, যা স্কুলের বিরুদ্ধে একটি দূরভিসন্ধিমূলক ও বিভ্রান্তিকর ষড়যন্ত্র। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অভিভাবকদের অবহিত করেছে এবং প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ও পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সাহেব আলী পাঠান এ বিষয়ে বলেন, পুলিশ লাইনস স্কুলে পুলিশ সদস্যদের অবস্থানের কারণে স্কুল বন্ধ বা পরীক্ষা স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি এ তথ্যকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে বলেন, বাইরে থেকে আসা ৬৬ জন পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য পুলিশ লাইনসে ব্যবস্থা করা হয়েছে, স্কুলে নয়।
তিনি নিশ্চিত করেন, স্কুল নিয়মিত নিয়মে চলবে এবং কেউ যেন এ ধরনের ভুয়া তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়।
এনসিপির সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপালগঞ্জে তাদের একটি সমাবেশে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর থেকে এনসিপির সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নেত্রকোনার এই সমাবেশেও তাই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া নোটিসের কারণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে, স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়েছে।