ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অতিথি কক্ষে (গেস্ট রুম) জুলাই স্মৃতি পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং জহুরুল হক হল সাহিত্য সংসদের আহ্বায়ক মো. আহসান হাবীব ইমরোজ কর্র্তৃক এই পাঠাগার স্থাপন করা হয়। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান হল পরিদর্শনে এসে পাঠাগার উদ্বোধন করেন। এ সময় মো. জহির রায়হান নামের আরেকজন শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাই স্মৃতি এক্সিবিশন’ আয়োজন করেন।
উপাচার্য বলেন, জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকগুলো ছোট ছোট এবং গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগুলো ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে। হল পর্যায়ে পড়াশোনার কালচার গড়ে ওঠা এবং গেস্ট রুমকে আরও দৃষ্টিনন্দন করা একটি ভালো উদাহরণ।
জহুরুল হক হল সাহিত্য সংসদের আহ্বায়ক মো. আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট রুমগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্কের প্রতীকী স্থান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্ট রুমের মোড়কে ঘৃণ্য দাসত্ব প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জুলাইয়ের স্পিরিটকে ছড়িয়ে দিতে এবং অতিথি কক্ষকে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
মো. জহির রায়হান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে পতিত স্বৈরাচার সরকার, তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীরা আমাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, জুলুম ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। বছর ঘুরে জুলাই আবার এসেছে। মূলত জুলাইকে ধারণ করে অভ্যুত্থানের স্বর্ণময় স্মৃতিগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের নিমিত্তেই ‘জুলাই স্মৃতি এক্সিবিশন’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যা একই সঙ্গে জুলাইকে প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান রেখেছে এবং অতিথি কক্ষের সৌন্দর্যবর্ধন ত্বরান্বিত করেছে।