মৌলভীবাজারে নাহিদ

পুলিশ হত্যার দায় চাপানো হচ্ছে ছাত্র-জনতার ওপর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পুলিশ হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার ওপর দায় চাপাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ গতকাল শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের বেরীরপাড় পয়েন্টে ‘ দশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৩ আগস্ট আমরা এক দফা দাবি দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম এই আন্দোলন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ছাত্রলীগ, পুলিশ ও সরকারপন্থি সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা বাধ্য হই প্রতিরোধে নামতে। তখন থেকেই অভ্যুত্থান শুরু হয়। এই আন্দোলনে যারা পক্ষে ছিল, তারা ছিল গণতন্ত্রের পক্ষে।

আর যারা বিরোধিতা করেছে, তারা ছিল ফ্যাসিবাদের দোসর।’

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা চাই নতুন বাংলাদেশ, নতুন ব্যবস্থা। পুরনো আইনকানুন ও শাসনব্যবস্থায় আর চলা যাবে না। অভ্যুত্থানের পর অনেকেই আবার পুরনো সিস্টেমে ফেরার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু আমরা জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো বেইমানি হতে দেব না। বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের মাধ্যমেই এই রাষ্ট্র পরিচালিত হতে হবে।’

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মৌলভীবাজার সীমান্তবর্তী জেলা। একসময় পার্শ্ববর্তী আসাম-ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন আসামে বাঙালিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। নাগরিকত্ব থেকে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক দাবি ছিল কর্মসংস্থানের। কিন্তু এখন তা রূপ নিয়েছে নির্বাচনের দাবিতে। আমরা অবশ্যই নির্বাচন চাই। তবে বিচার ও সংস্কার ছাড়া সেই নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়বে। জনগণও তা প্রত্যাখ্যান করবে।’