রায়পুরে ব্যাপক লোডশেডিং সত্ত্বেও দ্বিগুণ বিল!

গত জুন ও জুলাই মাসে রায়পুর উপজেলায় এক যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থেকেছেন। এমনকি বেশির ভাগ রাতে গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। অথচ সেই জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে আগের মাসগুলোর চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। 

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, রায়পুর উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এ জন্য প্রায় ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু গ্রিড থেকে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়। এ কারণে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। 

রবিবার সরজমিনে রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা এসব বিষয় নিয়ে প্রতিকার চেয়ে বিল হাতে পেয়ে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ছুটছেন পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে। তাদের দাবি ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তবুও দিগন্ত তিন গুণ বিল। শহরে দিনে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এসব বিষয় প্রতিদিন শতাধিক ব্যবহারকারী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে মিটার পরীক্ষা ও পরিবর্তনের আবেদন জমা দিচ্ছেন। কিন্তু তাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল থেকে রেহাইয়ের সমাধান মিলছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ডিজিটাল মিটার নিয়ে। এ মিটারগুলো ত্রুটিযুক্ত। বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ, এমনকি মেইন সুইচ বন্ধ রাখলেও এ মিটারগুলোতে বিল উঠতে থাকে বলে অনেক গ্রাহক জানান।  

মো. হিরণ নামের এক গ্রাহক বলেন, মে ও জুন মাসে এত লোডশেডিং থাকা সত্ত্বেও বিল এসেছে প্রায় চার হাজার টাকা। তাদের পরামর্শেই মিটার পরীক্ষা করে পরিবর্তনও করেছি। তবে গত দুই মাসের চেয়েও আরো বেশি লোডশেডিং ছিল জুলাই মাসে এর পরও কিভাবে বিদ্যুৎ বিল আসে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোশারফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ আসলে সমাধান করে দেই। তবে আগামী মাসে বিদ্যুৎ বিল জুলাইয়ের চেয়ে কম আসবে বলে মনে করি। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের ব্যাপারে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক গ্রাহক অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন। প্রতিদিনই ১৫ থেকে ২০ জন করে মিটার পরিবর্তন করে সমাধানের চেষ্টা করছি।