জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামালপুরে নদীভাঙন, নদী দখলসহ শত শত সমস্যা রয়েছে। বিগত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে কাজ না করে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির আশ্রয়স্থল তৈরি করেছেন। তিনি জামালপুরকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত করে জনগণের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জামালপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, সমিতির নামে সাধারণ মানুষের অর্থ লোপাট এবং ব্যাংক থেকে অর্থ পাচারের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জামালপুর পৌর শহরের ফৌজদারি মোড়ে এনসিপি জেলা শাখার উদ্যোগে এক পথসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সকালে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, হরিজন সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় এবং জামিয়া ইনআমিয়া ইসলামী কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর তিনি তমালতলা এলাকায় পদযাত্রায় অংশ নেন।
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা জাগরণ, বিচার ও সংস্কারের লক্ষ্যে এনসিপি জুলাই মাসব্যাপী পদযাত্রার আয়োজন করেছে। পদযাত্রাটি জামালপুর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফৌজদারি মোড়ে এসে শেষ হয়, যেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান প্রমুখ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার কমিশনে এনসিপি অংশ নিচ্ছে, কারণ গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী নির্বাচনে মৌলিক সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার দাবি জানান। এ ছাড়া জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষে বিভক্ত করে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেন, যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি, ফলে জুলাই সনদ আটকে রয়েছে।
ময়মনসিংহে পদযাত্রা ও সমাবেশ : একই দিন বিকেল ৫টায় ময়মনসিংহের শহীদ সাগর চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে টাউন হল মাঠে সমাবেশে মিলিত হয়। এর আগে নেতারা জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহে ৪১ জন শহীদ হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই গার্মেন্টস শ্রমিক ও দিনমজুর। তিনি বিগত সরকারের নদী ধ্বংস ও অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ময়মনসিংহবাসীকে নিয়ে কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র আদায়ের দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এনসিপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষের কাছে এনসিপির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি প্রশাসনের উদাসীনতার সমালোচনা করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রবিন প্রমুখ। জুলাই পদযাত্রা বাস্তবায়ন কমিটির নেতারাসহ এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।