সীমান্তে পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার পর ব্যাংকক ও নমপেন নিজেদের মধ্যে সংঘাত বন্ধ ও সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় শুরুর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত থেকেই তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের পর অস্ত্রবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, সংঘর্ষ বন্ধ করা এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রথম পদক্ষেপ এটি।
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জানান, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হান মানেত ও থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের কর্র্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দেন বলে জানা যায়। গত ২৪ জুলাই সীমান্তে একটি বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ৩৬ জন সেনা ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং হাজারো থাই ও কম্বোডিয়ান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অস্ত্রবিরতি ‘কার্যকর, যাচাই ও এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের’ জন্য বিশদ প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে বলা হয়েছে বলে মালয়েশিয়ায় দুই নেতার আলোচনার পর দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়া কেমন হবে, সে সম্বন্ধে সেখানে কিছু বলা হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেন, তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও ফুমথামের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সংঘাত বন্ধ না হয়, তাহলে কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি হবে না। উভয়পক্ষই তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চেয়েছে।