মুরাদনগরে দুই সন্তানসহ নারীকে হত্যায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে মা ও দুই সন্তানকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের পীর কাশিমপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহ আলম ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

তবে শাহ আলমের ছেলে এবং মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আজিজ সরকার দাবি করেছেন, তার বাবা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, এ মামলার এজাহারের ২৫ নম্বরে থাকা শাহ আলম নামের আসামির বয়স লেখা হয়েছে ৪০ বছর। অথচ আমার বাবার বয়স ৭০ বছরের ওপরে। এ ছাড়া এজাহারে পিতার নাম অজ্ঞাত লেখা হয়েছে। আমার দাদার নাম এলাকায় সবাই জানেন। তাহলে বাবার নাম গোপন রেখে এজাহার করা হলো কেন? এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

বিএনপি নেতা শাহ আলমকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ঘটনার আগে বা পরে কোথাও তার (শাহ আলমের) উপস্থিতি দেখা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজেও নেই। আমার মনে হয়, তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

এদিকে মামলার বাদী নিহত রোকসানার বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বলেন, শাহ আলম নামের একজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে শুনেছি, তাই নাম দিয়েছি। আমি শতভাগ নিশ্চিত নই। পিতার নাম অজ্ঞাত রেখেছি এ জন্যই। তদন্তে যদি দেখা যায় তিনি জড়িত নন, তাহলে আমি চাই না কোনো নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হোক।

এ বিষয়ে জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার চক্রবর্তী বলেন, শাহ আলম সরকারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার মোট ১০ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। শাহ আলমকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তবে মামলার প্রধান আসামি আকুবপুর ইউপির চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ এখনো পলাতক রয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদী রিক্তা আক্তার। তিনি বলেন, শিমুল বিল্লাহ গ্রেপ্তার না হলে আমার জীবনও ঝুঁকিতে থাকবে। আমি তার দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।

উল্লেখ্য, ৩ জুলাই সকালে মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে রোকসানা বেগম (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে তাসপিয়া আক্তারকে (২৯) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন রাতে রোকসানার বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।