পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর আবারও ইরানকে হুমকি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার স্কটল্যান্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, তারা আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করলে আমরা আগের চেয়েও দ্রুত সেটি মুছে দেব। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, খুব খারাপ বার্তা পাঠাচ্ছে। আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছিলাম। সেটি পুনরায় শুরু করলে এবার চোখের পলকে তা শেষ করে দেব। তিনি আরও বলেন, আমরা সেটি করব খুশি মনে এবং প্রকাশ্যে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ক্ষয়ক্ষতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে। ফলে ইরানের কর্মসূচির অগ্রগতি কিছুটা সময়ের জন্য পিছিয়ে গেছে মাত্র।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ইউরোপীয় তিন দেশের সঙ্গে আলোচনার আগে বলেছেন, ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে সরে আসবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে বলেছিলেন, আমরা আমাদের পারমাণবিক অধিকার ছাড়ছি না, তবে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, সে বিষয়ে আমি খুব আশাবাদী নই। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আরাগচি বলেন, ইরান কখনোই হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো ভাষায় সাড়া দেবে না। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসা ও বেসামরিক কারণে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন। যদি ইরান আবারও হামলার শিকার হয়, তাহলে আরও দৃঢ়ভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানাতে তেহরান দ্বিধা করবে না। এর মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তিনি বলেছেন, খামেনিকে এই বার্তা দিতে চাই, যদি আপনি ইসরায়েলকে হুমকি দেন, তবে আমাদের দীর্ঘ হাত এবার আরও জোরে তেহরান পর্যন্ত পৌঁছাবে, ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছেও।