রংপুরের গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি ইউনিয়নে হামলার শিকার আলদাতপুর ছয়আনী হিন্দুপল্লীতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবার ছাড়া অন্যরা ঘরে ফিরেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়িগুলো মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল, লবণ, চিনি ও তেল দেওয়া হয়েছে। তবে, এখনো আতঙ্কে আছেন ছয়আনী হিন্দুপল্লীর আশপাশের হিন্দু পরিবারগুলো।
এদিকে গঙ্গাচড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং বিচার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে আশপাশের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই দল বেঁধে সড়কের পাশে বসেছিলেন। এ সময় কথা হয় আলদাতপুর কাচারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক বালা রায়ের সঙ্গে। ৭০ বছর বয়সী এ বৃদ্ধ বলেন, ‘হামলার ঘটনার পর থেকে আমরা ঠিকমতো বাড়িতে খাইতে পারছি না, ঘুমাতে পারছি না। সোমবার রাতে হুট করে খবর আসে মাগুরা মাস্টারপাড়া থেকে নাকি একটা মিছিল এসেছে আমাদের গ্রামে ভাঙচুর চালাবে। তখন আমাদের এলাকার লোকজন রাস্তায় দাঁড়ায়। পরে আর তারা এদিকে আসেনি। এরপর গ্রামের আর কেউ ঘুমাইনি, সবাই রাত জেগে এলাকা পাহারা দিয়েছি।’
আশপাশের গ্রামগুলো ঘুরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ‘গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়া বেতগাড়ি ইউনিয়নের এক কিশোরকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের এলাকার লোকজন এসে ওই কিশোরের বাড়ি মনে করে আরেকজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে আরেক দফা হিন্দুপল্লীতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ থেকে তাদের গ্রামেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’ গঙ্গাচড়ার মডেল থানার ওসি আল এমরান বলেন, এখানকার পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু তিনটি পরিবার ছাড়া সবাই এখন তাদের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ১৫ বান্ডিল টিন এবং খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩০ বস্তা শুকনো খাবার, ২০টি মাটির চুলা এবং চারটি টিউবওয়েল সংস্কার করে দেওয়া হচ্ছে।
বিচার দাবি দুই মানবাধিকার সংস্থার : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৫ বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। গতকাল মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পৃথক বিবৃতি দেয় দুই মানবাধিকার সংগঠন। বিবৃতিতে আসক বলে, শুধু এক কিশোরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যেভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছে,।
এইচআরএসএসের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা শুধু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি নয়; বরং বাংলাদেশের সংবিধান, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।