ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে গাজার শাসন পরিত্যাগ ও অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও মিসরসহ ১৭টি দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব লীগ। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে জাতিসংঘের একটি সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণাপত্রে এই আহ্বান জানানো হয়। এদিকে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিসহ কিছু শর্ত না মানলে আগামী সেপ্টেম্বরেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সময়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র মাল্টাও।
‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ এর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রকাশিত সাত পৃষ্ঠার ওই ঘোষণায় বলা হয়, গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্রেক্ষাপটে হামাসকে গাজা শাসন শেষ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র জমা দিতে হবে। এর লক্ষ্য একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা আহ্বান জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল ও হামাস উভয়েই গাজা ত্যাগ করুক ও গাজার শাসনভার ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হোক। ঘোষণাপত্রে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলিদের ওপর হামাসের হামলার নিন্দা জানানো হয়। অবশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানায়নি। এই সম্মেলনের সহ-আয়োজক ফ্রান্স ঘোষণাপত্রটিকে ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো হামাসের নিন্দা জানালো, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানাল, ফিলিস্তিনি প্রশাসন থেকে হামাসকে বাদ দেওয়ার দাবি করল এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে। ঘোষণায় আরও বলা হয়, যুদ্ধ শেষে গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হতে পারে। ঘোষণাটিতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশ স্বাক্ষর করেছে। অবশ্য ইসরায়েল ও তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি।
এদিকে, গাজায় যুদ্ধ না থামলে আগামী সেপ্টেম্বরেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্টারমার স্পষ্ট করেছেন, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি না মানে, জাতিসংঘের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা পুনরায় চালু করতে ব্যর্থ হয় এবং টেকসই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি পরিকল্পনার প্রতি প্রতিশ্রুতি না দেয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে গিয়েই যুক্তরাজ্য প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ঘোষণাকে হামাসের সন্ত্রাসের পুরস্কার বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইসরায়েল সীমান্তে একটি জিহাদবাদী রাষ্ট্র গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করা হয়, তাহলে পরে তা যুক্তরাজ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র মাল্টাও। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলা এই ঘোষণা দিয়েছেন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে মাল্টা সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হয়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির মধ্য-ডানপন্থি বিরোধীদলও অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়।