সমাবেশের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছেড়ে দিয়ে আগামী ৩ আগস্ট শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্রদল। এই দিন শহীদ মিনারে ছাত্রসমাবেশ করার কথা ছিল ছাত্রদলের। তবে এনসিপির অনুরোধ রেখে, স্থান পরিবর্তন করেছে তারা।
গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু ছাত্র সমাবেশের কর্মসূচিটি প্রথম ঘোষণা করি এবং যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের অনুমতিও লাভ করি। তাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার আমরাই একমাত্র বৈধ দাবিদার। তারপরও একটি উদার গণতান্ত্রিক সহাবস্থানে বিশ্বাসী পরম সহিষ্ণু গ্রহণযোগ্য সব মত-পথের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সংগঠন হিসেবে আমরা এনসিপির অনুরোধকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের ছাত্র সমাবেশের স্থানটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমাদের ৩ আগস্টের সমাবেশটি সেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পরিবর্তে শাহবাগে অনুষ্ঠিত হবে বলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট শাহবাগে সমাবেশের জন্য নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য রাজধানীবাসীর কাছে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করে রাকিব বলেন, ‘এনসিপির নেতাদের বারবার অনুরোধের কারণে ছাত্রদল তার নির্ধারিত সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করেছে।’
সমাবেশের স্থান পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিব বলেন, ‘আমরা চাইলে সমাবেশটি ঘোষিত স্থানেই করতে পারতাম। কিন্তু আমরা কাঁটার পরিবর্তে ফুল দিলাম। আমরা উসকানির বিপরীতে শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা দিলাম। আমরা মনে করি, আমরা অকারণে উত্তেজনা ছড়ানোর বদলে উদারতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাম।’
রাকিবের মতে, ‘যারা অভ্যুত্থানের একক মালিক হয়ে উঠতে চাইছেন, আশা করি এই উদারতার পর তারা নিজেদের সম্বিত ফিরে পাবেন এবং সঠিক ও সুস্থ ধারায় নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আজকের মেসেজ খুবই পরিষ্কার। আমরা আগামী দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ইতিবাচক ধারার গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, সহাবস্থানের, পরস্পর শ্রদ্ধাপূর্ণ, সৌহার্দ্যমূলক, পলিসিনির্ভর ছাত্ররাজনীতি করতে চাই।’ বিএনপির শাসনামলে ক্যাম্পাসগুলোয় ‘ন্যূনতম রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় ছিল’ বলে মন্তব্য করে রাকিব।
তিনি বলেন, ‘সব মত ও পথের ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে অবস্থান করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেত। কিন্তু ২০০৮ সালের পর এই কালচারটির একেবারেই বিলুপ্ত হয় এবং সব ক্যাম্পাসে বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠনের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই নিজেদের জীবন, রক্ত, ক্যারিয়ার, পরিবারকে বিসর্জন দিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে স্বনামে ফ্যাসিবাদের প্রতিরোধ জারি রেখেছিল। এত এত জুলুম সত্ত্বেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অদ্যাবধি ক্যাম্পাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সরকার পতনের পর ছাত্রদল কোথাও হল বা হলের সিট দখল করেনি। কোনে শিক্ষার্থীকে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে বাধ্যও করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও আমাদের অবদানকে বারবার অস্বীকার করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের নানাভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। অপপ্রচার করা হয়েছে, গুজব ছড়ানো হয়েছে। অনলাইনে কুৎসিত আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু এই সবকিছুর বিপরীতে আমরা শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি করে যাচ্ছি। এই সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের ঘটনা এর সর্বশেষ উদাহরণ।’
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে নিচতলায় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক অসুস্থ রকিবুল ইসলাম বকুলের আরোগ্য কামরায় ছাত্রদল মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে। সেখানে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।