ফেনীতে জুলাই হত্যা মামলা

শেখ হাসিনাসহ ২২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজশিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) হত্যা মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনী সদর আমলি আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান দুপুর ১২টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলায় ১৫৬ জন এজাহারনামীয় এবং ৬৫ জন অজ্ঞাতপরিচয়সহ ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ২২টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি হত্যা এবং ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। এসব মামলায় ২ হাজার ১৯৯ জন এজাহারনামীয় এবং প্রায় ৪ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজারের বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১১ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে মাসুম হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ও নিজাম উদ্দিন হাজারীকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া ব্যক্তিদেরই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে। দীর্ঘ তদন্ত ও বিশ্লেষণের পর ১৫৬ জন এজাহারভুক্ত এবং অতিরিক্ত ৬২ জনকে যোগসাজশের প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল এবং পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মাহবুবুল হাসান মাসুম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তিনি মারা যান। নিহত মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে এবং ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ এবং ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ মামলায় ৫১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয়েছে।