ছারছীনার পর হেফাজতের কাছে বিএনপির নেতারা

ছারছীনা দরবারের পীরের সঙ্গে সাক্ষাতের চার দিনের মাথায় এবার চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। ঘুরে গেলেন হেফাজতের ‘মারকাজ’ হিসেবে পরিচিত হাটহাজারী মাদ্রাসা। জিয়ারত করলেন হেফাজতের প্রয়াত মুরুব্বিদের কবর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খান গতকাল শুক্রবার হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন এবং সেখানকার হেফাজতের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে প্রবীণ আলেম মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছি। তার স্বাস্থ্যের খবরাখবর নিয়েছি। এ সাক্ষাতের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, হেফাজত কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তবে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে হেফাজতের অবদান অনস্বীকার্য।

এদিকে হাটহাজারীতে হেফাজতের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত ও হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা এখানে যারা মুরুব্বি আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। শহীদ জিয়াও সবার পরামর্শ নিয়ে কাজ করতেন, বেগম খালেদা জিয়াও সবার পরামর্শ নিয়ে কাজ করতেন, একা নয়; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে। আমরাও এখনো মনে করি যে, আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি মহান আল্লাহ আমাদের দেন তাহলে আমাদেরও সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। আমরা প্রাচীনতম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই হাটহাজারী মাদ্রাসায় যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের বলেছি যে, আমরা আপনাদের দোয়া চাই, আপনাদের পরামর্শ চাই, আপনাদের সহযোগিতা চাই। যাতে আমাদের হাজারো শহীদ, লাখো নিপীড়িত মানুষ এবং ২০১৩ সালে হেফাজতের ডাকে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের সবার আকাক্সক্ষা যেন আমরা পূরণ করতে পারি।

এর আগে গত ২৯ জুলাই ছারছীনা দরবারে গিয়ে সেখানকার পীর মাওলানা আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সেদিন সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই সাক্ষাতের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও একাধিকবার ছারছীনা দরবার শরিফে এসেছিলেন এবং পীর সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। আমিও দোয়া ও সৌজন্যে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছি।

তবে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে যখন বিএনপির বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ ইসলামী দলগুলোর জোট গঠন নিয়ে নানা আলাপ-আলোচনা চলছে, ঠিক তখন ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও বিশেষ করে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতের কর্ণধারদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের এ সাক্ষাতের কর্মসূচি বেশ গুরুত্ববহ বলে মনে করছেন অনেকে।

হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মারকাজ হাটহাজারী আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন এবং সংগঠনের প্রয়াত মুরুব্বিদের কবর জিয়ারত করেছেন। একই সঙ্গে তারা ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়েছেন এবং সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

তিনি বলেন, সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটা অবশ্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানোর পর ছাত্র-জনতা হত্যায় জড়িতদের বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও রাষ্ট্র গড়ার কাজে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির ঐক্য খুব বেশি প্রয়োজন। কারণ, নিজেদের মধ্যে যেকোনো ধরনের অনৈক্য ফ্যাসিবাদীদের ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন ইসলামি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।