সৌদি আরব আগামী বছর থেকে তাদের কয়েকটি শহর ও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদেশিদের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ স্থাবর সম্পত্তি কেনার সুযোগ দিতে যাচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হজ ও ওমরাহপালনকারীদের জন্য মক্কায় নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। তারা মক্কায় হজগ্রাম বানাতে যাচ্ছে। এ জন্য মক্কায় জমি কিনবে দেশটি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ৩০ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির বিনিয়োগমন্ত্রী রোজান রোজলানি।
বৈঠক শেষে বিনিয়োগমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের কাছে মক্কায় হজগ্রাম তৈরির প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ওই সময় তারা দুজন এতে সম্মত হন।
বিনিয়োগমন্ত্রী রোজান রোজলানি আরও জানান, মক্কার রয়্যাল কমিশন হজগ্রাম তৈরির জন্য তাদের আটটি প্লটের কথা বলেছে। যেগুলো মক্কার খুবই কাছে অবস্থিত। এই প্লটগুলো উঁচু ও নিচু উভয় জায়গায় অবস্থিত। এগুলোর আকার ২৫ থেকে ৮০ হেক্টর। তিনি বলেছেন, এসব জায়গার যেখানে মানুষ বাস করেন বা বসতি আছে সেগুলো সরানোর কাজ সৌদি সরকারই করবে। তারা শুধুমাত্র জায়গাগুলো কিনবেন।
এরপর সেখানে তৈরি করা হবে গ্রাম। সেই গ্রামে ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহযাত্রীদের জন্য থাকার জায়গা তৈরি করা হবে। এর ফলে নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাবারের সুবিধা পাবেন ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা। এছাড়া সেখানে একটি বাণিজ্যিক এলাকাও থাকবে।
গ্রামটি তৈরি হয়ে গেলে ইন্দোনেশিয়ার যেসব নাগরিক সৌদিতে হজ ও ওমরাহ করতে যাবেন তারা হজ গ্রামে থাকতে পারবেন। এতে তাদের হজ ও ওমরাহ করা আরও সহজ হবে। জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়াকে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে তাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত, অবকাঠামোগত নকশা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
এ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থায়ন করবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো, লাখ লাখ ইন্দোনেশিয়ানদের হজ ও ওমরাহযাত্রা পরিষেবা উন্নত করা।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি হজ ও ওমরাহ পালন করেন। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার জন্য বার্ষিক হজ কোটা সবচেয়ে বেশি থাকে। ২০২৫ সালে ২ লাখ ২১ হাজার ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক হজ পালন করেছেন। আর ওমরাহ পালন করেছেন ১০ লাখ ৫ হাজার ৬৫ জন।