বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া

প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব জোরদার করছে ‘টাইগার শার্ক’

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও একধাপ এগিয়ে গেল যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার শার্ক’-এর সফল সমাপ্তির মাধ্যমে। গতকাল শনিবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই মহড়া ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

মহড়াটিতে অংশগ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, সমুদ্র টহল ও লক্ষ্যভেদ অনুশীলন, সাঁতার ও ডুবসাঁতার, ক্লোজ কোয়ার্টার্স কমব্যাট, যৌথ পরিকল্পনা সেশন, কৃত্রিম অনুশীলন পরিবেশে যুদ্ধ-প্রস্তুতি, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়।

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলো ভবিষ্যতের আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অ্যাম্বাসাডর ট্রেসি জ্যাকবসন বলেন, এই যৌথ সামরিক মহড়া নিরাপদ, শক্তিশালী ও আরও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করে। এটি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারত্বেরও প্রতীক।

কৌশলগত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি টাইগার শার্কে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা সেশন এবং কৃত্রিম অনুশীলন পরিবেশে প্রশিক্ষণ। এসব কার্যক্রম ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গঠনে সহায়তা করে।

‘টাইগার শার্ক’ শুধু একটি সামরিক মহড়া নয়, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নিরাপদ, শক্তিশালী এবং আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের শক্ত ভিত্তি এই মহড়ার মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম যুদ্ধ কমান্ড, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করে। অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে একত্রে কাজ করে এই কমান্ড আঞ্চলিক ‘টাইগার শার্ক’ মহড়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যেমন আরও সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের দিগন্তও প্রসারিত হয়েছে এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।