উইজডেনের সিরিজ সেরা একাদশে ভারত-ইংল্যান্ডের আছেন কজন

কী উত্তেজনাটাই না ছড়িয়ে শেষ হলো ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফি। দিনশেষে শিরোপা ভাগ করে নিয়েছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। কেননা ২-২ ব্যবধানে ড্র হয়েছে সিরিজ। গতকাল শেষ টেস্টে ওভালে ইংল্যান্ডকে ৬ রানে হারিয়ে নাটুকে এই অধ্যায় শেষ করে ভারত। নানা কীর্তির এই সিরিজের সেরা একাদশ তৈরি করেছে খ্যাতনামা ক্রিকেট সাময়িকী উইজডেন। যেখানে জায়গা পেয়েছেন ভারতের ৭ জন ও ইংল্যান্ডের ৪ জন।

লোকেশ রাহুল
৫ ম্যাচ, ৫৩২ রান, গড় ৪৯.৯০, ২ সেঞ্চুরি, সেরা: ১৩৭
তরুণদের মাঝে অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন রাহুল। সিরিজ শুরুর আগে দলে নিজের জায়গা পাকা না থাকলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রতিটি টেস্টেই অন্তত এক ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন এবং দুটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতের শুরুর ব্যাটিং লাইনআপে।

বেন ডাকেট
৫ ম্যাচ, ৪৭৯ রান, গড় ৭৭.৬৩, ২ সেঞ্চুরি, সেরা: ১৪৯
ডাকেটের পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটই তাকে এই একাদশে যশস্বী জয়সওয়ালের ওপরে জায়গা দিয়েছে। হেডিংলিতে ১৪৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস ইংল্যান্ডকে সিরিজে এগিয়ে দিয়েছিল। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৮২.৯৪, যা সিরিজে সর্বোচ্চ।

জো রুট
৫ ম্যাচ, ৫৩৭ রান, গড় ৬৭.১২, ৩ সেঞ্চুরি, সেরা: ১৫০
গিলের বিপরীতে ‘নম্বর ফোর’ যুদ্ধের একটি অংশ হয়েও রুট নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সিরিজ চলাকালীন তিনি টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকালের রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন। তার ধারাবাহিকতা এবং ব্যাটিং ঐতিহ্য এই একাদশে তাকে নম্বর তিনে ঠাঁই দিয়েছে।

শুবমান গিল
৫ ম্যাচ, ৭৫৪ রান, গড় ৭৫.৪০, ৪ সেঞ্চুরি, সেরা: ২৬৯
এই শতাব্দীতে কেবল তিনজন ব্যাটসম্যান দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে গিলের চেয়ে বেশি রান করেছেন। ইতিহাসে কেবল একজন খেলোয়াড়ই একটি সিরিজে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত পারফরমার।

রিশাভ পান্ত (উইকেটকিপার)
৪ ম্যাচ, ৪৭৯ রান, গড় ৬৮.৪২, ২ সেঞ্চুরি, সেরা: ১৩৪
ভাঙা পা নিয়েও এক ইনিংসে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন পান্ত। লিডসে দুটি সেঞ্চুরি, বার্মিংহামে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং লর্ডসে প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানে দলকে সাহায্য করেছেন। জেমি স্মিথকে পেছনে ফেলে এই একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন।

রবীন্দ্র জাদেজা
৫ ম্যাচ, ৫১৬ রান, গড় ৬৮.৪২, ১ সেঞ্চুরি, সেরা: ১০৭*
৭ উইকেট, গড় ৭২.৪২, সেরা: ৪-১৪৩
বল হাতে উল্লেখযোগ্য না হলেও ব্যাট হাতে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ছিলেন জাদেজা। ম্যানচেস্টারে তার সেঞ্চুরি এবং ধারাবাহিক ফিফটিগুলো সিরিজে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বেন স্টোকস
৪ ম্যাচ, ৩০৪ রান, গড় ৪৩.৪২, ১ সেঞ্চুরি, সেরা: ১৪১
১৭ উইকেট, গড় ২৫.২৩, সেরা: ৫-৭২
সিরিজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টোকস। নিজেকে নিঃশেষ করে বোলিং করেছেন এবং ম্যানচেস্টারে সেঞ্চুরি করে দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন।

ওয়াশিংটন সুন্দর
৪ ম্যাচ, ২৮৪ রান, গড় ৪৭.৩৩, ১ সেঞ্চুরি, সেরা: ১০১*
৭ উইকেট, গড় ৩৮.৫৭, সেরা: ৪-৪৩
সিরিজে ভারতের টেলএন্ড ব্যাটিংকে শক্তিশালী করার জন্য দলে জায়গা পান সুন্দর। ম্যানচেস্টারে দুর্দান্ত রক্ষণের মাধ্যমে সেঞ্চুরি ও দ্য ওভালে আগ্রাসী ব্যাটিং প্রমাণ করেছে তিনি ভারতের স্পিনিং অলরাউন্ডারদের ভবিষ্যৎ।

জোফরা আর্চার
২ ম্যাচ, ৯ উইকেট, গড় ২৮.৬৬, সেরা: ৩-৫৫
চার বছরের বিরতির পর ফিরে এসে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন আর্চার। দুই ম্যাচে নয় উইকেট তুলে নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তিনি।

জাসপ্রিত বুমরা
৩ ম্যাচ, ১৪ উইকেট, গড় ২৬.০০, সেরা: ৫-৭৪
হেডিংলিতে মাত্র ছয় বলেই উইকেট তুলে নেন বুমরাহ। যদিও তার প্রত্যাশিত প্রভাব পুরোপুরি না পড়লেও, বেশিরভাগ সময়েই তিনি ছিলেন দুই দলের সেরা বোলারদের একজন।

মোহাম্মদ সিরাজ
৫ ম্যাচ, ২৩ উইকেট, গড় ৩২.৪৩, সেরা: ৬-৭০
বুমরা না থাকলে সিরাজ যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। ওভালে শেষ দিনে ডাকেট, পোপ ও অ্যাটকিনসনকে ফেরানোর মধ্য দিয়ে সিরিজে ২৩ উইকেট নিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।