সম্প্রতি ইসরায়েলের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুরো গাজা উপত্যকার দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কয়েকটি গণমাধ্যমকে ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও, মৌখিকভাবে গৃহীত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেতানিয়াহু সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা। এরপরই দেশটির সাবেক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ ৬ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে নেতানিয়াহুর প্রতি চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। এবার গাজায় সামরিক অভিযান আরও বাড়িয়ে ভূখণ্ডটি পুরোপুরি দখলে নেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছেন, তার বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। তিন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে গতকাল বৃহস্পতিবার তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছেন। এতে গাজায় যুদ্ধ নিয়ে দেশে-বিদেশে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহুর ওপর চাপ আরও বাড়ল।
তিন ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ এক বৈঠকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গাজা দখলের পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, গাজার অবশিষ্ট অংশ দখলের সিদ্ধান্ত একটি ভুল পদক্ষেপ হবে। সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে হবে, যা হবে একটি ফাঁদের মতো। কারণ হামাস এখনো সম্পূর্ণ দুর্বল হয়নি। তা ছাড়া হামাসের কবজায় এখনো যেসব জিম্মি আছেন, তাদের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে। সেনাবাহিনীও বর্তমানে গাজা পুরোপুরি দখলের অভিযানে নামার মতো অবস্থায় নেই উল্লেখ করে বৈঠকে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমানে গাজার বিশাল এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে আছে; কিন্তু টানা প্রায় ২ বছর ধরে অভিযানের জেরে আমাদের বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ও সদস্য ক্লান্ত, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত এবং অনেকে অবসাদগ্রস্তও হয়ে পড়েছে। আমাদের এখন কাজ চালাতে হচ্ছে রিজার্ভ সেনাদের নিয়ে। এই অবস্থায় দখলকৃত এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে আমাদের। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে, গাজার ৭৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায়। এরপর হামাসকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর গত ২২ মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের ৫৬ শতাংশই নারী, শিশু ও বেসামরিক; আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ এবং পুরো গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে গাজায় অভিযান শুরু করেছিল আইডিএফ, তা পূরণ হয়নি। ফলে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে আইডিএফের। বিভিন্ন ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের পর দিন ধরে গাজায় অভিযানরত আইডিএফের অনেক কর্মকর্তা এবং সেনা সদস্য মানসিক অবসাদের ভুগছেন।