নির্বাচনে আ.লীগ থাকলে গণরোষ সৃষ্টি হবে

‘পতিত আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত। তারা নির্বাচনে এলে গণরোষ সৃষ্টি হবে, এতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না, কাজেই তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রার্থী ও ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। নির্বাচনে অনিয়ম হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারলে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হবে। একটি দল ক্ষমতায় আসছে এমন প্রচারণা সামনে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে নির্বাচনের টোটাল সিস্টেমই করাপ্ট করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত আসনকেন্দ্রিক ভোট পদ্ধতি দুর্নীতির কারণে ফেল করেছে। আবার পিআর পদ্ধতি সমর্থনযোগ্য হলেও তাতে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে মিশ্র পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়। আগামীতে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, এটি ঐকমত্য কমিশনের একটি বড় অর্জন। এতে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হবে এবং তাদের সক্ষমতা বাড়বে।’

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার আশঙ্কা দূর করতে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত আগামী রোজার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। পরাজিত ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী পাশর্^বর্তী দেশে অফিস খুলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে করছে। নির্বাচন বানচাল করতে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কেউ কেউ ১/১১ সৃষ্টির বা গৃহযুদ্ধের জুজুর ভয় দেখাচ্ছে, এটা অমূলক। এজন্য অবশ্যই ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা নিয়ে এখনো রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে পারেনি। শিগগিরই জুলাই সনদে সব দলের স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। কিন্তু এখনো যে অনৈক্য বিরাজ করছে তাতে আমি শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা নিয়ে শঙ্কিত হচ্ছি। তবে গণতন্ত্র, দেশ ও জাতীর স্বার্থে সব পক্ষকে যার যার অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা উচিত।’

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চেয়ে প্রার্থীসহ ভোটারদের ভূমিকাই প্রধান’ শীর্ষক ছায়া সংসদে ঢাকা কমার্স কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক কাজী জেবেল, সাংবাদিক সাইদুর রহমান ও শিরিনা খাতুন বীথি। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।