মানুষের মতো রোবট বিক্রির দোকান!

রোবট বিক্রির দোকান খুলেছে চীন, যেখানে বিক্রি হচ্ছে মানুষের মতো দেখতে বিভিন্ন রোবট। বেইজিং শহরে অবস্থিত ‘রোবট মল’ নামের নতুন এই রোবটের দোকানে যান্ত্রিক দাস থেকে শুরু করে আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো দেখতে মানবসদৃশ রোবট বিক্রি হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। চীনের রাজধানীতে শুক্রবার চালু হওয়া এই দোকানে ১০০টির বেশি ধরনের পণ্য বিক্রি হবে। এই দোকানটি দেশটির প্রথম দিকের এমন কিছু দোকানের একটি, যেখানে হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো রোবট ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী রোবট বিক্রি হচ্ছে।

অনেকে এ দোকানটিকে গাড়ির শোরুমের সঙ্গে তুলনা করছেন। কারণ, এখানে রোবট বিক্রির পাশাপাশি খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতের সেবাও দেওয়া হচ্ছে। বিবিসি লিখেছে, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইতে অনেক বেশি বিনিয়োগ করেছে চীন। কারণ, ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বয়স্ক জনসংখ্যার মতো বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চাইছে দেশটি।

দোকানটির পরিচালক ওয়াং ইফান বলেছেন, রোবট যদি মানুষের ঘরে ঘরে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে শুধু রোবট নির্মাতা কোম্পানির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এ দোকানে যেসব রোবট বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম শুরু হচ্ছে ২ হাজার ইউয়ান বা প্রায় ২৭৮ ডলার থেকে শুরু এবং কিছু রোবটের দাম কয়েক লাখ ইউয়ান পর্যন্তও হতে পারে।

আয়োজকরা বলেছেন, দর্শনার্থীরা এখানে বিভিন্ন ধরনের রোবটের সঙ্গে কথা বলতে ও যোগাযোগ করতে পারবেন। এখানে কুকুরের মতো দেখতে রোবট ও দাবা খেলতে জানে এমন রোবটও রয়েছে। দোকানটিতে আলাদা একটি অংশও রয়েছে, যেখানে রোবটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও রোবট মেরামতের সেবাও মিলছে। রোবট মলটি বিশেষ থিমওয়ালা এক রেস্তোরাঁর পাশে অবস্থিত, সেখানে রোবটরা অতিথিদের খাবার পরিবেশন করছে ও এসব খাবার তৈরি করছে যান্ত্রিক রাঁধুনিরা। বিবিসি লিখেছে, চীন গত বছরে এই খাতে ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও রোবট তৈরির নতুন কোম্পানির জন্য ১ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও করছে চীন সরকার।

রোবট মলের উদ্বোধনের পাশাপাশি বেইজিংয়ে পাঁচ দিনের ‘ওয়ার্ল্ড রোবট কনফারেন্সও শুরু হয়েছে শুক্রবার। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, এ বছরের ইভেন্টটিতে দুইশোরও বেশি দেশীয় ও বিদেশি রোবট কোম্পানি থেকে দেড় হাজারেও বেশি প্রদর্শনী হবে। ১৪ থেকে ১৭ আগস্ট প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং, যেখানে ২০টির বেশি দেশের দল বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেবে।