নির্বাচনে জিতলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’ এমন ইঙ্গিত দিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শুধু নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা, ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি, ভবিষ্যতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে এখানে বসে আছেন। আমি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, আমাদের এই নেতা আমাদের ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী, তার দৃষ্টিতে এটা আনতে চাই। তার স্ত্রীও (জোবাইদা রহমান) একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক, এখান (ঢাকা) থেকে তিনি গ্র্যাজুয়েশন করেছেন, এ বিষয়টির দিকে তিনি অত্যন্ত বেশি গুরুত্ব দেবেন। কারণ ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এটি বড় বিশাল একটা দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।’ এ সময় পুরো মিলনায়তন তুমুল করতালি দিয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।
গতকাল শনিবার দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কাউন্সিল অধিবেশনে মির্জা ফখরুল বক্তব্য রাখার সময় এই পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডা. ফরিদ আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন চিকিৎসক। আমার স্ত্রীর চিকিৎসক এবং আমি তার কাছে অত্যন্ত ঋণী। উনি আমাকে বলেছিলেন, উনি যে বিষয়টির ওপর বিশেষজ্ঞ, বিলাত থেকে এসে এখানে তিনি ক্যানসারের ওপর যে কাজগুলো করতে চান, সেই কাজগুলো করতে পারছেন না। মেধাবী চিকিৎসক নিয়ে এখানে একটা সেন্টার গড়ে তুলতে চান, যেটা হবে “সেন্টার অব এক্সেলেন্স”। কিন্তু সেটি করতে পারছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধ নীতি বিশেষ করে, যারা ওষুধ তৈরি করেন, প্রস্তুতকারক, তারা দুদিন আগে আমার কাছে এসেছিলেন। তারা “গুরুতর সংকটে” আছেন। বর্তমান সরকারপ্রধানের যিনি বিশেষ সহকারী আছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের, তিনি এমন কতগুলো ব্যবস্থা বা আইন দিচ্ছেন, যাতে করে (ওষুধ) শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই যে বিষয়গুলো, এগুলো কিন্তু আমাদের তুলে ধরতে হবে। আজকে যে এখানে আমাদের ওষুধশিল্প, পৃথিবীর (অন্য দেশ) সঙ্গে আপনার প্রতিযোগিতা করছিল, বাইরে রপ্তানি করছিল, এখন তারা বলছে যে, আমাদের কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে, অর্থাৎ এই সরকারের নীতিগুলো এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব, তিনি ৩১ দফা দিয়েছেন, এই জাতির সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে দফাগুলো দিয়েছেন, “ম্যাগনাকার্টা” বলি আমরা এটাকে, সেখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা তিনি (তারেক রহমান) উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যবহার করেছেন।’
একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। আমরা দেখতে চাই, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নয়, বাংলাদেশে শুধু মানুষের ভোটের অধিকার নয়, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, অন্নের অধিকার সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে।’
নির্যাতিত চিকিৎসকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন চলার সময় আমাদের অনেক চিকিৎসককে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, জাতি আপনাদের সম্মান জানাচ্ছে, আপনারা যারা ওই সময় ঝুঁকি নিয়ে আহতদের চিকিৎসা করেছেন, সেটা জাতি কোনো দিন ভুলবে না।’
এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। এ ছাড়া ড্যাবের কাউন্সিলের সফলতাও কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।