যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক (অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ) আরোপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র ও বিমান কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করেছে নয়াদিল্লি। এটি ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ভারতের অসন্তোষের প্রথম স্পষ্ট লক্ষণ। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর ওয়াশিংটন সফরও বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল ডাইনামিক্স ল্যান্ড সিস্টেমস দ্বারা তৈরি স্ট্রাইকার যুদ্ধ যান এবং রেথিয়ন ও লকহিড মার্টিন দ্বারা তৈরি জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি বোয়িং পি-৮১ রিকনেসান্স বিমান কেনার প্রস্তাবিত তিন দশমিক বিলিয়ন ডলারের চুক্তি নিয়েও আলোচনা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যার ফলে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। ট্রাম্পের দাবি, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অর্থায়ন করছে। তবে ভারত বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা যখন তাদের স্বার্থে মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, তখন শুধু ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা অন্যায্য ও অযৌক্তিক। ভারতের কর্মকর্তারা বলছেন, শুল্ক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে স্পষ্টতা পেলে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে।
চীনকে মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের গভীরতর নিরাপত্তা অংশীদারত্ব বাড়লেও, ঐতিহাসিকভাবে ভারতের শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ফ্রান্স, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার দিকে ঝুঁকেছে। এর পেছনে কারণ, রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানির সীমাবদ্ধতা ও ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য নিজের অস্ত্রভা-ারের বেশি ব্যবহার। দুই ভারতীয় সূত্র বলেছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাতেও রাজি, যদি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ থেকে একই দামে তেল পাওয়া যায়। তবে ট্রাম্পের হুমকি ও দেশে বাড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী জাতীয়তাবাদ রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে মোদির ঝুঁকির সিদ্ধান্ত নেওয়াটাকে রাজনৈতিকভাবে কঠিন করে তুলেছে। রাশিয়ার তেলের ছাড়ও ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ভারতের এক কর্মকর্তা বলেন, লিখিতভাবে কেনাকাটা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাই দুপক্ষ চাইলে দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলানো যাবে। তবে আপাতত কোনো অগ্রগতি নেই। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আলোচনায় বিরতি দেওয়ার খবর ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’। ক্রয় প্রক্রিয়া বিদ্যমান নিয়ম মেনেই চলছে।