সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন পোস্টদাতা যুবদল কর্মী।
গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবদল কর্মী হলেন রনি হোসাইন। তিনি উপজেলার আমুড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শেখ রাজু ঘটনার পর থেকে পলাতক।
পুলিশ ও স্থানীয়সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাজুকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন যুবদল কর্মী রনি হোসাইন। পোস্টে তিনি রাজু ও এক নারীর ছবি দিয়ে লিখেন, এই কুলাঙ্গার অন্যের বউ, দুই বাচ্চার মাকে নিয়ে হোটেলে হোটেলে ঘুরতেছে আর পরকীয়া করতেছে। এর প্রতিবাদ করেছিলাম, এজন্য ফেক আইডি চালু করে আমার নামে মিথ্যা-বানোয়াট কথা বলছে।
এই পোস্ট দেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর রাত ১২টার দিকে গোলাপগঞ্জ শহরের কদমতলা এলাকায় রনি হোসাইনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অবশ্য রনিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া লোকজন অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি অস্ত্রোপচার বিভাগের গেইট তালাবদ্ধ থাকায় প্রায় আধাঘণ্টা রনিকে বাইরে রাখতে হয়। তারা মনে করেন, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে হয়তো রনিকে বাঁচানো যেত। এ সময় বিক্ষুব্ধরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুরও চালান।
এ ব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতারের উপপরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাত আড়াইটার দিকে ওই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জরুরি বিভাগ থেকে তখন তাকে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু রোগীর সঙ্গে থাকা একদল লোক তাকে সরাসরি অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। ওইসময় ওটিতে কাজ না থাকায় ডাক্তার-নার্সরা ওয়ার্ডে ছিলেন এবং ওটি পরিষ্কার করা হচ্ছিল, গেইটও লাগানো ছিল। এ অবস্থায় রোগীর সঙ্গীরা গেইটে ধাক্কাধাক্কি করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। দ্রুত সেখানে চিকিৎসক গিয়ে দেখেন রোগী মারা গেছেন। ডা. সৌমিত্র আরও জানান, রোগীর পেটে গভীর ছুরিকাঘাত ছিল, নাড়িভুড়িও বেরিয়ে এসেছিল।
গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, রনি ও রাজু দুইজনই বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে একসময় বন্ধুত্বও ছিল। সম্প্রতি নারীঘটিত ব্যাপার নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর জেরে রনি খুন হয়ে থাকতে পারেন।
গোলাপগঞ্জ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্ত শেখ রাজু পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।