আনন্দ মিছিলে গুলিতে আইনজীবী নিহত

সাবেক এমপি বাহার ও সূচনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

কুমিল্লায় গত বছরের ৫ আগস্ট বিকালে আনন্দ মিছিল শেষে ফেরার পথে গুলিতে নিহত হন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, তার মেয়ে ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. তাহসিন বাহার সূচনা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকনসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ।

রবিবার (১০ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা এই তথ্য নিশ্চিত করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, এজাহারে প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের নাম থাকলেও তদন্তে আরও ৩০ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে, সাবেক এমপি বাহার, তার মেয়ে সূচনা এবং আতিক উল্লাহ খোকনের পরিকল্পনা ও ইন্ধনেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কুমিল্লা নগরীতে আনন্দ মিছিলে সহিংসতার ঘটে। ওই দিন বিকালে আদালত এলাকায় হামলার খবর পেয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে যান। ফেরার পথে নগরীর মোগলটুলী এলাকায় তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন অ্যাডভোকেট কালাম এবং আহত হন আরও অনেকে।

কালামকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকার ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট বিকালে তার মৃত্যু হয়। নিহত অ্যাডভোকেট কালাম জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, কুমিল্লা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

ঘটনার পরদিন নিহতের সহকারী অ্যাডভোকেট মোস্তাফা জামান জসিম কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রথমে নাম উল্লেখ করা হয় সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ রায়হান আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ইমাম হোসেন ওরফে বাচ্চুসহ পাঁচজনের। এছাড়া অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকেও আসামি করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ রায়হানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। রায়হানসহ কয়েকজন গুলি ছোঁড়েন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার অন্যতম সাক্ষী ও ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, আমার সামনেই আবুল কালাম গুলিবিদ্ধ হন। আমাদের অনেক সহকর্মী আহত হন। আমরা এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এদিকে এ মামলার ৪ নম্বর আসামি ইমাম হোসেন বাচ্চু ৩০ মার্চ গ্রেপ্তার হন এবং ৩১ মে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে তাকে অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া ৪২টি হত্যা ও সহিংসতার মামলার মধ্যে এটিই প্রথম চার্জশিট দাখিল।