স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের ডাক, বরিশালে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবার অবনতি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ১৫ দিন ধরে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েও তাকে সরাসরি আসার জন্য বাধ্য করতে পারেনি, কারণ তিনি অবজ্ঞা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্দোলনকারীরা দেশবাসীকেও স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের জন্য রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। বরিশালে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করে শেবাচিমের সুষ্ঠু সংস্কার ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরদার করা হয়েছে। অবরোধের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বিপর্যস্ত, যার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

সোমবার বেলা ১১টায় বরিশালের নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ‘বরিশাল ব্লকেড’ শুরু হয়। বিকেলে ৪টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়ার পরও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে আসেননি। রাষ্ট্র হয়তো সিন্ডিকেট ও মাফিয়া চক্রকে ভয় পাচ্ছে। আমরা বলছি—ভয় পাবেন না, জনগণের পাশে থাকুন। বরিশালে আসুন, নয়তো দেশের যেকোনো প্রান্তে যান, স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা একই। আমরা লড়ব, আমাদের তিন দফা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিন, তাহলে আমরা শান্তি পাব।

রনি আরও বলেন, আগামীকাল থেকে দেশের প্রত্যেক জেলা ও বিভাগে আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা আমাদের মৌলিক অধিকার, যা আদায় করতে হবে। আমরা লাগাতার ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, সংস্কার শুরু হয়েছে, ঊর্ধ্বতন মহল থেকে আশ্বাস পেয়েছি। চারজন নতুন ডাক্তার পদায়ন হয়েছে। সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়, বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের অবরোধে জরুরি চিকিৎসায় অসুবিধা বাড়ছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরাসরি না এলে পরিস্থিতি সংকটময় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।