শেখ হাসিনা কি জামায়াত পালত প্রশ্ন গয়েশ্বরের

জামায়াতে ইসলামীর ভাব অনেক বেশি বেড়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘যারা পিআর চায় তারা কখনোই জনগণের সঙ্গে ছিল না।’ ৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে জামায়াত। রাজাকার, স্বৈরাচার, বাকশাল এই তিনটা শব্দ মানুষের কাছে ঘৃণিত। যত সংস্কার হোক, জামায়াত ভালো হবে না। তাদের ভাব অনেক বেশি বেড়ে গেছে। জামায়াত নির্বাচন ভন্ডুল করার জন্য যথেষ্ট। সচিবালয়ে সব জামায়াত। এত জামায়াত কোত্থেকে এলো। শেখ হাসিনা কি জামায়াত পালত? দেশে অফিস খুলতে না পারলেও আওয়ামী লীগ কলকাতায় অফিস খুলেছে। আওয়ামী লীগের জন্ম পাকিস্তানে।’

গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৬তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর এ মন্তব্য করেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘জিয়া ৯ মাস যুদ্ধ করেছিলেন দেশের ভেতর থেকে। বাকিরা ছিলেন সীমান্তের ওপারে। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াও পালাননি। আমরা লুকিয়েছিলাম কিন্তু পালাইনি। আমরা গেরিলার মতো যুদ্ধ পরিচালনা করেছি ও কর্মীদের পথ দেখিয়েছি। শেখ মুজিবের পালানোর অভ্যাস আছে। শেখ হাসিনাও সেই অভ্যাসটাই পেয়েছে। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৭ তারিখ হাসিনা এলো, আর ৩০ তারিখ জিয়া মারা গেলেন, হাসিনা পালাতে গেল। জিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে যে হাসিনার সম্পর্ক নেই তা বলা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘১/১১’র সময় শুধু চিকিৎসার জন্য কোকো বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন। কোকো রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার, ও রাজনীতি করত না, খেলাধুলা নিয়ে থাকত। কোর্টে হাজিরা দিতে যেত শ্বাসকষ্ট নিয়ে। অনেকে বলে জিয়া পরিবার শেষ করে দিত। কিন্তু মূর্খরা বোঝে না এটা সম্ভব নয়। আমরা পয়সা খরচ করে জিয়ার প্রচার করিনি। জিয়ার নাম মানুষের মুখে মুখে।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জুলাই শহীদদের স্বপ্নপূরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে, যেন জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করতে পারে।’

এদিকে গতকাল কোকোর ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে দোয়া এবং দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘চট্টগ্রামে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে এই পরিস্থিতি চলছে। এর মধ্যেও গোটা জাতি প্রত্যাশা করছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সিডিউল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু মনে হচ্ছে, এই নির্বাচনকে নিয়েও অনেকেই নানা ধরনের কূট-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাতীয়তাবাদী শক্তিকেই টার্গেট করেছে আরেকটি গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি। তারা সামনের নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্রের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে। পরাজিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশে নেই, তারা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কালো টাকা এবং অবৈধ অস্ত্রের জোরে নানাভাবে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক শক্তি কোনো কর্মসূচি দিলেই তারা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে ষড়যন্ত্র করছে।’

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন শহীদ আরাফাত রহমান কোকো। শেখ হাসিনার সরকারের অত্যাচারের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আমিনুল হক, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, দক্ষিণ বিএনপির তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তর বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।