এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হচ্ছে ২ জাহাজ

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি আগেই জানিয়েছিল সরকার। এবার দেশটি থেকে ৫৫-৬৬ হাজার ডিডব্লিউটি সম্পন্ন দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি থেকে এ জাহাজ দুটি কিনতে ব্যয় হবে ৯৩৫ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ জাহাজ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘দুটি জাহাজের প্রতিটি ৫৫-৬৬ হাজার ডিডব্লিউটি সম্পন্ন বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অর্জন’ প্রকল্পের আওতায় দুটি জাহাজ ও আনুষঙ্গিক সেবা ক্রয়ের জন্য এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। এর মধ্যে দুটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি থেকে ৭৬ দশমিক ৬৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে জাহাজ দুটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৯৩৫ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। জাহাজ দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা হবে।

অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিআইডব্লিউটিএর বাস্তবায়নধীন ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালস আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ) (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর বিআর ডব্লিউটিপি-ডব্লিউ২-০১, বিআর ডব্লিউটিপি-ডব্লিউ৩-০১ অ্যান্ড বিআর ডব্লিউটিপি-ডব্লিউ১-০২-এর অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নে সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত থেকে যেভাবে অর্থ লুট করা হয়েছে, পৃথিবীর কোথাও এভাবে ব্যাংক খাতের অর্থ লুট করা হয়নি। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের বিশাল বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারায় বা আইসিইউতে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে আরও দ্রুত এগোতে পারলে ভালো হতো।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আমাদের মতে অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক। আর্থিক খাতের বিশাল বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব ছিল। এমনিতেই আমাদের আর্থিক সক্ষমতা কম। তার মধ্যে এগুলো। সেজন্য আমি খাদের কিনারায় বলি, আইসিইউতে ছিল বলি। সেখান থেকে আমরা একটু ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এভাবে ব্যাংক খাতে লুটপাট করা হয়নি। একটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আমি জানতে চাইলাম, সে বলছে স্যার ৯৫ শতাংশই খেলাপি। কে নিয়েছে টাকা? চেয়ারম্যান সাহেব, আর তার লোকজন। চিন্তা করতে পারেন? পৃথিবীর কোনো দেশে ব্যাংকের টাকা এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়নি। সেটা কিন্তু আপনার-আমার টাকা।

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা একেবারে খারাপ অবস্থায় নেই। মূল্যস্ফীতি কমে ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। খারাপ খারাপ বললে তো খারাপই হয়ে যাব। গ্রোথ হচ্ছে না, কর্মংস্থান হচ্ছে না, কিছুই হচ্ছে না, এভাবে বললে তো হবে না। গ্রোথ (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) তো নেগেটিভ না। আনুমানিক একটা তথ্য গ্রোথ ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আমরা আশা করছি বছর শেষে ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হবে।

তিনি বলেন, হয়তো আপনারা যেভাবে প্রত্যাশা করেন, সেভাবে হয়নি। তবে অনেক কিছুই হয়েছে। আর একটু দ্রুতগতিতে হলে হয়তো ভালো হতো। আমরা আশা করছি সামনে অর্থনীতি আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। কতটি ব্যাংক মার্জ (একীভূত) করা হবে এবং কবে নাগাদ করা হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটা নিয়ে বাংলাদেশ কাজ করছে। কতটা ব্যাংক হবে, তা আমি বলতে চাই না। তবে হবে।

যদি ব্যাংকের একীভূতকরণ নির্বাচিত সরকারের অধীনে চলে যায় এবং তারা যদি না করে, সে বিষয়ে আপনার কিছু বলার আছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে মোটামুটি আলোচনা হয়েছে। এখনো পুরোপুরি উল্টে গেলে তো কিছু করার নেই।