মালয়েশিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকারের আপিল খারিজ

রাজকীয় এক নথি হাতে পেতে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের প্রচেষ্টা আটকাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের আপিল খারিজ করে দিয়েছে মালয়েশিয়ার শীর্ষ আদালত। ওই নথি পেলে সাজা বাড়িতেই কাটানোর সুযোগ পাবেন বলে দাবি নাজিবের। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী কয়েকশ কোটি ডলারের ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বন্দি আছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছর তখনকার রাজা আল-সুলতান আব্দুল্লাহ রাজকীয় ক্ষমার অংশ হিসেবে যে সংযোজিত আদেশ জারি করেছেন, তাতে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ ১২ বছর থেকে অর্ধেক কমিয়ে ৬ বছর করা হয়েছে বলেই নাজিব দাবি করছেন। তখন থেকেই নাজিব ওই রাজকীয় আদেশের অস্তিত্ব নিশ্চিত ও তা কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। মামলাটি মালয়েশিয়ায় ব্যাপক কৌতুহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সাবেক রাজার কার্যালয় রাজকীয় নথিটি জারির কথা নিশ্চিত করলেও ক্ষমা পর্ষদের সদস্যরাসহ একাধিক সরকারি কর্র্তৃপক্ষ মাসের পর মাস ধরে এমন কোনো নথি সম্বন্ধে তারা অবগত নয় বলে দাবি করে আসছিল। গতকাল বুধবার ফেডারেল আদালতের তিন সদস্যের প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে সংযোজিত আদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেয়। তবে তারা বলেন, আদেশটি আইনসম্মত কি না কিংবা সত্যিই এটা রাজকীয় ক্ষমার অংশ হিসেবে জারি হয়েছে কি না তা নির্ধারণের এখতিয়ার তাদের নেই। মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত ফেডারেল কোর্টের বিচারক জাবারিয়া মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমরা এই মামলাটি হাইকোর্টে ফেরত পাঠাচ্ছি, যাতে নতুন এক বিচারকের সামনে মূল বিচারিক পর্যালোচনা শুনানি হয়।’

রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকারী ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) একটি ইউনিট থেকে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধে ২০২০ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন নাজিব। ওয়ানএমডিবি সংশ্লিষ্ট কিছু অভিযোগ থেকে তার মুক্তি মিললেও ওই কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত সবচেয়ে বড় মামলার রায় এখনো বাকি। আদালত অক্টোবরে মামলাটির চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাজিব শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।