ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এমপিও শিক্ষকদের আলটিমেটাম

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, বেতনের সঙ্গে ১৫ শতাংশ চিকিৎসা ভাতা ও ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়াসহ কয়েকটি দাবিতে সমাবেশ করেছেন এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। দাবি পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারকে এক মাসের আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। বেঁধে দেওয়া এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে ‘দৃশ্যমান ও যৌক্তিক’ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুরু হওয়া এই সমাবেশে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটে’র ব্যানারে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। পরে নিজেদের দাবি নিয়ে শিক্ষকদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে যান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এক মাসের আলটিমেটাম দেন জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

সমাবেশের ফলে সকাল থেকেই সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে হাইকোর্ট, পল্টন, গুলিস্তান কাকরাইলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে তীব্র যানজট হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এক মাসের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অর্ধদিবস এবং ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। তাতেও না হলে ১২ অক্টোবর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ করে ডিউ লেটার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা ভাতা ৫০০ থেকে ১০০০ করা হবে। তারা বলেছেন, সব দাবি একবারে পূরণ করা সম্ভব নয়। আমরা এ দাবিগুলো পূরণে কী পরিমাণ অর্থ লাগবে তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রস্তাব রেখেছি, আমাদের বাড়ি ভাড়া পার্সেন্টেজ হিসেবে বাড়াতে হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হলো : গতকাল বেলা দেড়টার দিকে সমাবেশস্থল থেকে ১০ শিক্ষক নেতা সচিবালয়ে যান। তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শিক্ষকদের জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বজনীন বদলি নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে সভায় বসেই এ কমিটি করার ঘোষণা দেন উপদেষ্টা।

সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বজনীন বদলি ও বাড়ি ভাড়া কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাছাড়া, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়াগুলো যৌক্তিক উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

সভা থেকে জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মিজানুর রহমানকে সর্বজনীন বদলি কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাধ্যমিক-২) সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এর আগে সমাবেশে আসা শিক্ষকরা জানান, এমপিওভুক্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, শতভাগ উৎসব ভাতা, ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫ শতাংশ চিকিৎসা ভাতা এবং বিনোদন ভাতার দাবিতে তাদের এই মহাসমাবেশ।