এক জায়গায় বিএনপি-যুবদলের সমাবেশের ঘোষণা, ১৪৪ ধারা

ঝালকাঠির রাজাপুরে বিএনপি ও যুবদলের একই স্থানে একই সময়ে পৃথক সমাবেশ ডাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ গত মঙ্গলবার রাত ১২টায় এক আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করেন।

ইউএনও জানান, রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূর হোসেন গত ৭ আগস্ট এক পত্রে ১৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে র‌্যালি ও সমাবেশের বিষয়ে জানান। এরপর ১১ আগস্ট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন মোল্লা একই স্থান ও সময়ে সমাবেশের আয়োজনের পত্র দাখিল করেন।

তিনি বলেন, ‘দুপক্ষই সমাবেশের কথা জানিয়েছে, তবে কাউকে লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সময়ে একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’

জানা গেছে, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি বুধবার বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ ডেকেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সাইফ আলী খানের। আমন্ত্রণপত্রে স্বাক্ষর করেন অ্যাডভোকেট নূর হোসেন। প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও মনোনয়নপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত ও বিএনপি নেতা কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। এই গ্রুপটি বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তাদের আমন্ত্রণপত্রে রফিকুল ইসলাম জামাল ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের নাম উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে, যুবদলের সমাবেশে জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রবিউল হোসেন তুহিন ও সদস্য সচিব আনিচুর রহমানের উপস্থিত থাকার কথা। এই গ্রুপটি রফিকুল ইসলাম জামালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে রবিউল হোসেন তুহিন দাবি করেন, যুবদলের এই আয়োজন সম্পর্কে তিনি অবগত নন। জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমরা আগেই কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। বিএনপির কর্মসূচি সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না।’

উপজেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কর্মসূচি সম্পর্কে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলে ভালো হতো।’

অ্যাডভোকেট নূর হোসেন বলেন, ‘আমরা ৭ আগস্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও থানার ওসিকে কর্মসূচির বিষয়ে জানিয়েছি। ইউএনওর ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত সঠিক নয়।’

রাজাপুর থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন আছে।’