সাঁড়াশি অভিযানে যৌথবাহিনী, এবার লুটের পাথর ধরা

সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর থেকে লুটে নেওয়া পাথর ধরা শুরু হয়েছে। লুণ্ঠিত পাথর উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে সেনা, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনী।

আজ বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ৭০টি ট্রাক।

এর আগে বুধবার রাতে কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই পাথর সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে নিয়ে পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। যাতে পর্যটনকেন্দ্রটি আগের রূপ ফিরে পায়।

এদিকে পাথর লুটে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। পাশাপাশি এ ব্যাপারে মাঠে নেমেছে দুদকও। দুদক সিলেটের কর্মকর্তারা বুধবার সরেজমিনে সাদা পাথর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।

এ প্রসঙ্গে দুদক কর্মকর্তারা বলেন, সাদা পাথরের কয়েক শ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ যারা লুটে নিয়ে আত্মসাত করেছে তাদেরকে শনাক্তের কাজ চলছে। এরপর দুদক আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাথর লুটে জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ বুধবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে।

ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলের ঝর্ণা আর ছোট, বড় পাথরের জন্য সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র গত কয়েক বছরে ব্যাপক পরিচিতি পায়। সারা দেশের পর্যটকরা ছুটে যান সাদা পাথরের টানে। পাথরে ভরপুর সাদা পাথরে চোখ পড়ে লোভীদেরও। পাথর চুরি ও পাচার হয়েছে সব সময়ই। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর শুরু হয় ব্যাপক লুটপাট। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সবাই পাথর উত্তোলন ও পাথর ব্যবসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কতিপয় নেতা সাদা পাথর লুটেও জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের অভিযানে লুটপাটে মাঝে মাঝে ছেদ পড়লেও পুরোপুরি থামেনি কখনও। সর্বশেষ গত কয়েক সপ্তাহে অবাধে লুটে নেওয়া হয় পাথর। এতে প্রায় পাথরশূন্য হয়ে পড়ে সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রচার হলে টনক নড়ে প্রশাসনের।

৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ

সিলেটে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাদা পাথর থেকে লুট হওয়া প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার দিনভর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছিলেন সেনা সদস্যরাও। 

জেলা প্রশাসনসূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত অভিযানে ১৩০টি পাথরবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ৭০টি ট্রাকে লুটের পাথর পাওয়া যায় এবং সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট। জব্দকৃত এই পাথর সাদা পাথরে নিয়ে পুনরায় ফেলা হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সাদা পাথরে গিয়ে পাথর প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বুধবার রাতে কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছিল। পাথর রাতেই সাদা পাথর এলাকায় পুনস্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন নাহার।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশ বাঁচাতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, মজুদ বা পাচারে জড়িত কেউ ছাড় পাবেন না।

গত বুধবার রাতে সিলেটের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়সভায় পাথর লুটপাট বন্ধ, লুটের পাথর উদ্ধার করে পুনস্থাপনসহ ৫ দফা সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো- সাদা পাথর ও জাফলং ইসিএ এলাকায় যৌথবাহিনী ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকবে যৌথবাহিনী, অবৈধ স্টোন ক্রাশার মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান, পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফেরত নিতে হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আটক

সাদা পাথর থেকে পাথর লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন আলমকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ।

তিনি জানান, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলা রয়েছে। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।