গত ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৫ নেতার ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যাওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত ছিল এনসিপির সাধারণ সভা। এই ৫ নেতাকে শোকজের পর দলীয় সাধারণ সভায় এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সভায় এমন সফর ‘উচিত হয়নি’ উল্লেখ করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এই শীর্ষ ৫ নেতা। বিষয়টি এনসিপির এক শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টার বেশি সময় চলা দলের সপ্তম সাধারণ সভা কক্সবাজার ইস্যুতে অনেকটা গরম ছিল। গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি দিনে দলটির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, তার স্ত্রী এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কক্সবাজার যাওয়ার সমালোচনা করেন দলটির নেতারা।
সভা সূত্রে জানা যায়, সভার বড় একটা অংশ জুড়ে শীর্ষ ৫ নেতার কক্সবাজার গমন নিয়ে আলোচনা হয়। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এই কাজের সমালোচনা করেন অনেক নেতা। কিছু সদস্য ফেসবুকে শোকজের জবাব দেওয়া, দল এবং আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে নিয়ে প্রশ্ন তোলারও নিন্দা জানান। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজারে যাওয়াকে ভালো সিদ্ধান্ত নয় বলে মন্তব্য করেন নেতারা। জবাবে হাসনাত-সারজিসরাও তাদের ব্যাখ্যা জানান। একপর্যায়ে তারা ‘কক্সবাজার যাওয়া উচিত হয়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন’।
এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কক্সবাজার ইস্যুতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন জন বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তারা (৫ নেতা) বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং পরে ‘কক্সাজার যাওয়া উচিত হয়নি’ জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
ওই এনসিপি নেতা বলেন, ৫ আগস্ট কেন এনসিপির কোনো কর্মসূচি ছিল না, এটা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ৫ আগস্ট আমাদের ছাত্র-জনতার মুক্তি দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু সেটা একপ্রকার সবাই ভুলেই গিয়েছিল। তা নিয়েও কিছুক্ষণ আলোচনা চলে।
ওই নেতা আরও বলেন, সভায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কার্যনির্বাহী কমিটি করার জন্য একটা কার্যনির্বাহী বডি করার প্রস্তাব করা হয়েছে যেখানে এনসিপির বিভিন্ন সেলের নেতৃত্বে যারা আছেন তারা থাকবেন। এই বডির মূল কাজ হবে এনসিপির কর্মসূচি কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তা দেখা। এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে এই কমিটি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহ এনসিপির সাংগঠনিক সপ্তাহ পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাংগঠনিক সপ্তাহ চলাকালে বাদ যাওয়া ৫টি জেলায় পদযাত্রা সম্পন্ন করা, জেলা, উপজেলা সমন্বয়কারীদের সঙ্গে বসা এবং বাকি থাকা কমিটিগুলো গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বৈঠকে দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারাসহ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।