অনেকেই খাদ্যাভ্যাসসহ নানা কারণে অ্যাসিডিটির সমস্যায় কষ্ট পায়। যন্ত্রণা থেকে দ্রুত রক্ষা পেতে ওষুধ থেকে শুরু করে অনেক কিছুই হয়তো করা হয়। তারপরও শেষ রক্ষা হয় না। যদি কারও বুক বা গলা জ্বালা করে, বুকে পিঠে ব্যথা হয়, পেট ফুলে থাকে, অকারণে ঢেকুর হয় তাহলে বুঝবেন এটা গ্যাসের বা অ্যাসিডিটির সমস্যার কারণেই হচ্ছে। ছোটখাটো সমস্যা ভেবে চিকিৎসা না করা হলে এটি গুরুতর শারীরিক জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কী করবেন বিস্তারিত জানালেন ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) দ্বারা অ্যাসিডিটি হয়। যা কিনা খাবারের পরে পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড ওপর দিকে উঠতে দেয়। অস্বস্তিকর জ্বলন্ত অনুভূতির সৃষ্টি করে, যা বুকের মাঝখানে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো এই ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে, কেউ মনে করতে পারেন আপনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। অ্যাসিডিটির কারণে কখনো কখনো অনেক পছন্দের খাবার বিসর্জনও দিতে হতে পারে। সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ অবস্থা দূর করা সম্ভব। কিছু কৌশল, যা দ্রুত এবং সফলভাবে বুক জ্বালার উপসর্গগুলোকে উপশম করতে পারে। ব্যথা হওয়ার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করতে এবং আপনার সবচেয়ে পছন্দের খাবারগুলো থেকে আপনি যে আনন্দ পান তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। ছোট ছোট কিছু পরিবর্তিত অভ্যাস আপনার অ্যাসিডিটি কমিয়ে দেবে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। এতে আশ্চর্য পরিবর্তন আনতে পারে। শুধু ডায়েট এবং খাওয়ার ধরনগুলো সামঞ্জস্য করে বা আপনার ঘুমানোর পদ্ধতিতে সাধারণ পরিবর্তন করে অ্যাসিডিটির লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
কী করবেন
খাওয়ার একেবারে শুরুতে এবং শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে পানি পান থেকে বিরত থাকুন। সে সঙ্গে অন্তত ৮ গ্লাস পানি প্রতিদিন পান করুন।
অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া থেকে বিরত
থাকুন।
একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প খাবার বারবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ক্ষুধা লাগার আগে খাওয়া আর একেবারে পেট ভরার আগে খাওয়া শেষ করুন।
সরাসরি দুধের চেয়ে দই খাওয়া ভালো। দুধ চা বর্জন করুন।
রিফাইন্ড আটা-ময়দা-সুজি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
কৃত্রিম চিনি খাবেন না।
সরাসরি দুধজাত খাবার না খেয়ে দই খেলে উপকার বেশি।
প্রর্যাপ্ত ঘুম স্ট্রেস কমিয়ে দেয়, ফলে অ্যাসিডিটি কমে যায়। রাতজাগা বন্ধ করে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম খুব প্রয়োজন। স্ট্রেস রিলিফের জন্য একবার প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া ভালো।
অ্যাসিডিটির জন্য ওষুধ কোনো সমাধান নয়। কেবল সাময়িক দমন। প্রাকৃতিক খাবার এবং লাইফস্টাইল মডিফিকেশনে অ্যাসিডিটি থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা যায়।