যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সবসময়ই “চমৎকার সম্পর্ক” ছিল। তবে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের কারণে তার প্রথম মেয়াদে সম্পর্কের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।
আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের অনেক কঠিন বৈঠক হয়েছে, আবার অনেক ভালো বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু ‘রাশিয়া, রাশিয়া, রাশিয়া’ ষড়যন্ত্র তদন্ত আমাদের জন্য বিষয়টা কঠিন করে তুলেছিল। তবু পুতিন বিষয়টা বুঝেছেন।”
বৈঠক প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনি ও পুতিন “কিছুটা অগ্রগতি” এবং “উল্লেখযোগ্য সাফল্য” অর্জন করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “চুক্তি হওয়ার আগে কোনো চুক্তিই নয়।”
ট্রাম্প বলেন, “আমি অল্প সময়ের মধ্যেই ন্যাটোকে ফোন করব। যাদের উপযুক্ত মনে করি, তাদের সঙ্গেও কথা বলব। আর অবশ্যই প্রেসিডেন্ট (ভলোদিমির) জেলেনস্কিকেও আজকের বৈঠক সম্পর্কে জানাব। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। যদিও এখনও পুরোপুরি চুক্তি হয়নি, তবে হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইউক্রেনকেও শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় রাজি হতে হবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের আলোচনায় যেসব বিষয় হয়েছে, তা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রশাসনের অন্যরা কাজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকেই এতে সম্মতি দিতে হবে।”
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়নি। পুতিন প্রায় আট মিনিট বক্তব্য রাখেন। সাধারণত দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হয় চার মিনিটেই।
বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এখন কিছু ফোন কল শুরু করব। ন্যাটো, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে জানাব কী হয়েছে।”
তিনি বৈঠককে “অত্যন্ত কার্যকর” আখ্যা দিলেও স্বীকার করেন, এখনও কিছু বড় অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে। তার ভাষায়, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি, তবে কয়েকটি বড় বিষয়ে এখনও পৌঁছাতে পারিনি। তারপরও আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি।”
সূত্র: সিএনএন, বিবিসি