পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিতর্কিত ‘ই-ওয়ান’ বসতি প্রকল্পের নির্মাণ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। এ প্রকল্প নিয়ে স্মোট্রিচের কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মতিতেই এ প্রকল্প পুনরায় শুরু হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার মা’আলে আদুমিম এলাকায় পরিকল্পিত বসতি স্থলের সামনে দাঁড়িয়ে স্মোট্রিচ বলেন, যারা আজ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা আমাদের জবাব মাঠেই পাবে, কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবতায়।
পরিকল্পনা কার্যকর হলে ওই এলাকায় ইসরায়েলিদের জন্য ৩ হাজার ৪০১টি বাড়ি নির্মিত হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর দ্বিধাবিভক্ত হবে এবং পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে, যা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে কার্যত শেষ করে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বা ট্রাম্প কারও কাছ থেকেই তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্ররা প্রকল্পটি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, এটি দুই রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা শেষ করে দেবে। বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং দখলদারিত্বকে আরও গভীর করবে। ইসরায়েল ২০১২ সালে ও ২০২০ সালে দুবার ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়েও পিছিয়ে আসে। এবার কাজ শুরু হলে কয়েক মাসের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে এবং এক বছরের মধ্যেই সেখানে ঘরবাড়ি উঠে যাবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষক সংস্থা পিস নাওর।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ওই বসতি পরিকল্পনাটি বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনিতা হিপার বলেছেন, পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া ভূখণ্ড পরিবর্তন আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ২৭ লাখ ফিলিস্তিনির মাঝে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাস করছে। এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নৃশংসতা চলছেই। প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনপন্থিরা। বিক্ষোভ হয়েছে নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে। গতকাল শুক্রবারও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছে ১৩ ত্রাণপ্রত্যাশীসহ অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি। অনাহারে মৃত্যু হয়েছে আরও এক শিশুর। এ নিয়ে গাজায় খাদ্যের অভাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৪০ জনে; যার মধ্যে ১০৭ জনই শিশু।