‘বেশন্ত্রি’ গ্রাম যেন এক মৃত্যুপুরী

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। সেখানকার প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছে। পিডিএমএ’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২৭৯ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং ১৩ জন শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশন্ত্রি গ্রামে।

পিডিএমএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুনের জেলার পীর বাবা সাহেব উপজেলায় অবস্থিত গ্রামটিতে এখন পর্যন্ত ৭৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩টি আংশিক এবং ১১টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের জেলা- সোয়াত, বাজাউর, তোরঘর, মানসেহরা, শাঙলা এবং বটগ্রামও বেশ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অগণিত মানুষ নিখোঁজ

বুনারের জরুরি উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, অনেক মানুষ তাদের পরিবারের সদস্যদের, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছে। বহু মানুষ এখনো তাদের পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাচ্ছে না। বুনেরের জরুরি উদ্ধার বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল রহমান জানান, বেশন্ত্রি ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি গ্রামও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই দুর্গত অঞ্চলে পৌঁছেছে। পাশাপাশি প্রদেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও উদ্ধারকারী দল আসছে। কিন্তু পরিস্থিতি খুবই সংকটজনক বলেন আবদুল রহমান। বেশন্ত্রি গ্রামে মানুষের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য মতো কেউ ছিল না। এসব কাজে পাশের গ্রামের মানুষদের সাহায্যে করতে হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ছিলেন বুনেরের ব্যবসায়ী নুর ইসলাম এবং বিদেশ থেকে ছুটিতে নিজ ভিটায় আসা মুহাম্মদ ইসলাম। তারা দুর্গত গ্রামবাসীর সহায়তায় এগিয়ে আসেন। নুর ইসলাম জানান, তিনি দুপুর ১টার দিকে বেশন্ত্রি গ্রামে পৌঁছান। তখন সেখানে একটা বাড়িও অক্ষত ছিল না। আকস্মিক বন্যার খবর পেয়ে মসজিদের স্থানীয় ইমাম মাওলানা আবদুল সামাদ অন্য গ্রামবাসীর মতো তার পরিবারকেও দ্রুত বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পর যখন তিনি বাড়ি ফিরে আসেন, তখন তিনি দেখতে পান আকস্মিক এই বন্যার পানির তোড়ে তার বাড়িসহ অনেকের বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

সম্পদের ক্ষতি

পিডিএমএ’র মতে, উদ্ধারকারী দল ও জেলা প্রশাসন একে অন্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগে রয়েছে এবং পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য ৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। পিডিএমএ জানিয়েছে, বুনের জেলার জন্য ১৫ কোটি, বাজাউর, বটগ্রাম ও মানসেরা জেলায় যথাক্রমে ১০ কোটি করে এবং সোয়াত জেলায় ৫ কোটি রুপি বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, চলমান এই ভারী বৃষ্টিপাত ২১ আগস্ট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অব্যাহত থাকতে পারে।