হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীরা বহু বছর ধরে সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং সঙ্কুচিত বেজমেন্টে ইবাদত করে আসছে। এবার সেখানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী নামাজঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এক দাবি পূরণ হবে, যা নিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীরা যথাযথ ইবাদত স্থলের অভাবজনিত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুসারে ধর্মীয় অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্য হার্ভার্ড ক্রিমসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতদিন হার্ভার্ডে মুসলিম ও হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত একমাত্র প্রার্থনাস্থল ছিল একটি আবাসিক হলের বেজমেন্টে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ ছিল এমন এক সংকীর্ণ ঘরে সীমাবদ্ধ থাকা, যেখানে বড় সমাবেশ সম্ভব হতো না। ‘হার্ভার্ড ধর্মা’ সংগঠনের সহসভাপতি আরনা সিতানি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি, এটা এমন পরিবেশ নয়, যেখানে মানুষ তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ চর্চায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারে।’
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মিথ ক্যাম্পাস সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী নামাজঘর তৈরি হবে, যা সেভার হল এবং কানাডে হলের অস্থায়ী নামাজের জায়গাগুলোর পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে। বর্তমানে কানাডে হলে যে জায়গাটি রয়েছে, সেটি হার্ভার্ড ধর্মার জন্য বরাদ্দ হবে, যাতে তাদের ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন সম্ভব হয়।
মুসলিম শিক্ষার্থী নেতারা বলছেন, নতুন এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাবে। হার্ভার্ড ইসলামিক সোসাইটির অভ্যন্তরীণ সম্পর্কবিষয়ক সহ-পরিচালক শাকিরা আলি বলেন, ‘একজন মুসলিম শিক্ষার্থী হিসেবে আমার জন্য এমন একটি জায়গা থাকা প্রয়োজন, যেখানে আমি নির্দ্বিধায় নামাজ পড়তে পারি, এটা আমাকে মনে করিয়ে দেবে যে, আমার বিশ্বাস এখানে সম্মানিত।’ হার্ভার্ডের ইসলামবিষয়ক পরামর্শদাতা খালিল আবদুর রশিদ জানিয়েছেন, নতুন নামাজঘরটি সাজানো হবে নতুন আসবাবপত্র দিয়ে, যেখানে অজুর জন্য বিশেষ ফুট বাথও থাকবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ই-মেইলে বার্তা দিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি, নতুন নামাজের জায়গাটি আমাদের ক্যাম্পাসের মুসলিম সমাজের জন্য শান্তি, আত্মিক প্রেরণা ও স্বস্তির উৎস হয়ে উঠবে।’ এই প্রার্থনাস্থল উন্নয়ন কেবল সুপারিশ বাস্তবায়নের অংশ নয়, বরং বৃহত্তর ধর্মীয় জীবন সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। এ গ্রীষ্মে হার্ভার্ড আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ইসলামিক, আরব বা ফিলিস্তিনি স্টাডিজে সমমানের একাডেমিক প্রতিশ্রুতি বিশ^বিদ্যালয় দেয়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যানুযায়ী, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে, যার আওতায় হার্ভার্ড ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করবে এবং এর বিনিময়ে বিলিয়ন ডলারের স্থগিত ফেডারেল গবেষণা তহবিল পুনঃস্থাপন করা হবে। গত চার মাস ধরে হার্ভার্ড উচ্চশিক্ষা খাতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে রয়েছে এবং শাস্তিমূলক অর্থায়ন কাটছাঁটের পর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।