ইউরোপ জুড়ে দাবানল পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা স্পেনের। তীব্র দাবদাহে দেশটির অন্তত ২০টি স্থানে বড়সড় দাবানলে পুড়ছে একরের পর একর জমি। পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে সেনাবাহিনীর আরও ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি আসতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে নেই। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পেন জুড়ে বিভিন্ন মোতায়েন রয়েছে প্রায় দুই হাজার সেনা। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা গেলিসিয়ায় অন্তত ১২টি স্থান বড় দাবানলে পুড়ছে।’ শহরটির স্থানীয় সরকারের প্রধান আলফনসো রুয়েদা জানান, এখনো এ এলাকার বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে থাকায় বিভিন্ন জনবসতিতে লকডাউন জারি রাখা হয়েছে। অনেক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। দাবানলের কারণে দেশ জুড়ে রেল চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির জাতীয় রেল অপারেটর রেনফে জানিয়েছে, দাবানলের কারণে মাদ্রিদ-গেলিসিয়া রেল চলাচল স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া, দাবানলের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে শ^াস-প্রশ^াসজনিত রোগের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এক সপ্তাহের দাবানলে পুড়ে গেছে স্পেনের ১ হাজার ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা, নিহত হয়েছে অন্তত তিনজন। চলমান এই হিটওয়েভ আর দাবানল দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী পর্তুগালও ভয়াবহ দাবানলের কবলে। চলতি বছর এ পর্যন্ত দাবানলে পুড়েছে দেড় হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা, যা ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দেশটিতে দাবানলে ভস্ম হওয়া গড় জমির প্রায় তিন গুণ। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো পুড়ে যাওয়া এই দেড় হাজার বর্গকিলোমিটারের অর্ধেকই পুড়েছে গত তিন দিনে। পর্তুগালের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এখনো আটটি বড় দাবানল সক্রিয় আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পিয়োদাও এলাকায়। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ট্রানকোসোতে আরও একটি দাবানল আট দিন ধরে জ¦লছে। দাবানলের ভয়াবহতার কারণে চলতি মাসের ২ তারিখ থেকে পর্তুগালে জাতীয় সতর্কতা জারি রয়েছে। পর্তুগালে দাবানল নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে চার হাজারের বেশি ফায়ার সার্ভিসকর্মী। ১ হাজার ৩০০ যান, ১৮টি উড়োজাহাজ নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন তারা।
দাবানলে পুড়ছে গ্রিস, বুলগেরিয়া, মন্টেনেগ্রো এবং আলবেনিয়াও। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তারাও। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছে তারা। শোচনীয় অবস্থা তুরস্কেরও। সাম্প্রতিক দাবানলে দেশটিতে ১৯ জন নিহত হয়েছে।