জান্নাতে যা থাকবে না

জান্নাতে প্রবেশের আগে জান্নাতের প্রকৃত রূপ মানুষ কখনোই অনুধাবন করতে পারবে না। তবে আল্লাহ কোরআনে এর কিছু ঝলক দেখিয়েছেন। কোরআনে জান্নাতকে এমন এক ভুবন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা দুনিয়ার জীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর উদ্দেশ্য যেমন আলাদা, তেমনি ভোগ-বিলাসও ভিন্নতর।

আল্লাহ মানুষকে জান্নাতের পরিচয় দিয়েছেন, এর অগণিত নেয়ামতের কথা বলেছেন, এর অপরূপ সৌন্দর্য সবার সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, পরকালীন জীবনে মানুষের জন্য দুটো পথ অপেক্ষা করছে, তার একটি হলো জান্নাত। সেখানে এমন সব কল্যাণ ও সুখ থাকবে যা মানুষের কল্পনা ও চিন্তার সীমা অতিক্রম করে যাবে। জান্নাত এমন এক আবাস, যেখানে নেয়ামতগুলো পূর্ণতা নিয়ে উপস্থিত হবে এবং মানুষের হৃদয়-প্রাণ যা কিছু কামনা করে তা সেখানে সহজলভ্য হবে।

জান্নাতে অভাব-অনটন থাকবে না, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকবে না, রোগ-শোক, মৃত্যু, ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও আফসোস থাকবে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।

দুঃখ-কষ্ট : দুনিয়াতে মানুষ যতটুকু সুখ উপভোগ করে, তার চেয়ে অনেক বেশি দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হয়। দুনিয়ার জীবন ভরপুর পরিশ্রম, বেদনা ও দুঃখে। কিন্তু আখেরাতের জীবনে এসবের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। জান্নাতের জীবন হবে শুদ্ধ আনন্দ ও খাঁটি সুখের। যেসব কারণে মানুষ দুনিয়াতে কষ্ট ভোগ করে, সেগুলো জান্নাতে একেবারেই অনুপস্থিত থাকবে।

রোগব্যাধি ও মৃত্যু : দুনিয়ার জীবনে দুঃখ-কষ্টের অন্যতম কারণ হলো রোগব্যাধি ও প্রিয়জনের মৃত্যু। কিন্তু জান্নাতে নেই কোনো অসুখ-বিসুখ, নেই মৃত্যু। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জান্নাতের মানুষ কখনো অসুস্থ হবে না, নাক পরিষ্কার করবে না, থুতু ফেলবে না।

জান্নাতে কারও মৃত্যু হবে না। সবাই চিরকাল সুখে থাকবে। রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, জান্নাতের দরজায় একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, এখন থেকে তোমরা চিরকাল সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা চিরকাল বাঁচবে, আর মৃত্যু আসবে না। তোমরা চিরতরুণ থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমরা চিরকাল উপভোগ করবে। আর দুঃখ ও আফসোস আসবে না।

ঝগড়া-ফ্যাসাদ : দুনিয়ার জীবনে মানুষ অনেক সময় সম্পর্কের কলহ ও কটু বাক্যে কষ্ট পায়। জান্নাতে এসব থাকবে না। সেখানে কেবল শান্তি ও শুভেচ্ছার বাণী শোনা যাবে।

জান্নাতবাসীর অন্তর হবে নির্মল, তাদের কথা হবে মধুর, তাদের কাজ হবে উত্তম। সেখানে কোনো কটু কথা, কষ্টদায়ক শব্দ বা প্ররোচনামূলক বাক্য থাকবে না। জান্নাত এমন এক আবাস, যেখানে অর্থহীন কোনো কথা বা কাজের স্থান নেই। দুনিয়ার জীবনের যত রকম দুঃখের কারণ আছে, তার কোনো ছায়াও জান্নাতে থাকবে না।