মুমিনের চার পরীক্ষা

কোরআনের ভাষায় মুমিনরা সফল, তাদের কোনো ভয় নেই, কোনো দুঃখ-দুর্দশা নেই। তবে সফল মুমিনরা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হন। সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই লাভ করতে পারবেন প্রতিশ্রুত জান্নাত। তাদের পরীক্ষার বিষয়গুলো সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব (কখনো) কিছুটা ভয়ভীতি দ্বারা, (কখনো) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনো) জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। সুসংবাদ শোনাও তাদের, যারা (এরূপ অবস্থায়) ধৈর্যধারণ করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৫৫) উল্লিখিত আয়াত অনুসারে পরীক্ষার বিষয় মোট চারটি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।

ভয়ভীতি : সাহাবিরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় বিভিন্ন ভয়ভীতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। কখনো হত্যার ভয়, কখনো মরুভূমির তপ্ত বালুতে শুইয়ে রেখে শাস্তি প্রদান, কখনো আগুন ও গরম তেলের ছ্যাঁকা দিয়েও ভীতি প্রদর্শন করা হতো। আর এসব থেকে মুক্তির এক মাত্র পথ ছিল ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করা। কিন্তু এত শাস্তি ভোগ করেও প্রকৃত মুমিনরা কখনোই ধর্ম ত্যাগ করেননি বা করবেন না।

ক্ষুধা : ইসলামের শুরুর যুগে মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। অধিকাংশ সাহাবিই আর্থিকভাবে দুর্বল ও অসহায় ছিলেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় মুসলমানদের অবস্থা এত শোচনীয় ছিল যে, স্বয়ং নবীজিও তার নিজ পেটে পাথর বেঁধে কাজ করেছেন। সাহাবায়ে কেরামও ক্ষুধার যন্ত্রণায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করেছেন। আর এত কষ্টে দিনাতিপাত করেও তারা নিজেদের দ্বীন ধর্ম ত্যাগ করেননি। অথচ ধর্মত্যাগ করলেই তারা পেতেন অট্টালিকা ও অর্থের ভাণ্ডার।

জীবন : মুমিন জীবনের অন্যতম এক পরীক্ষা হলো নিকটাত্মীয়ের পরলোক গমন করা। বিশেষ করে সন্তান ও পিতা-মাতা কোনো ব্যক্তি থেকে আলাদা হওয়া ভীষণ কষ্টের। নবী করিম (সা.)-ও এই পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি গর্ভে থাকাবস্থায় তার পিতাকে হারান এবং বাল্যকালে তার মাতাও ইন্তেকাল করেন। অপরদিকে তার তিন ছেলে ছিল যারা সবাই বাল্যকালে মারা যান। এভাবে আমাদের জীবনেও এমন ঘটনা ঘটে। তবে ধৈর্যধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।

ফল-ফসল : কৃষক-শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শস্য উৎপাদন করে। নিজেদের রুটি-রুজির জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে। মহান আল্লাহ কখনো ঝড়-বৃষ্টি বা পোকামাকড়ের দ্বারা ফসল নষ্ট করে তাদের পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। তবে মুমিন বান্দারা এ পরীক্ষায় কখনোই অকৃতকার্য হন না। ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর কাছে উত্তম কিছু কামনা করেন। আর এর মাধ্যমেই মুমিন তার সফলতার শিখরে পৌঁছান।

মহান আল্লাহ বিপদে বা বেদনায় তার রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। ধৈর্যের সঙ্গে রহমতের আশায় সব দুঃখ-কষ্ট মোকাবিলা করার নির্দেশ করেছেন। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা জুমার, আয়াত ৫৩) আর আল্লাহ ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মহা সুসংবাদ।