মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ২৮ ডিসেম্বর

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের দুই সপ্তাহ পেরোতেই জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল জান্তা সরকার। গতকাল সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রথম ধাপ আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা ইতিমধ্যেই এই নির্বাচনকে ধোঁকাবাজি বলে উল্লেখ করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় এমআরটিভিতে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচনের খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নির্বাচনের পরবর্তী ধাপের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এর আগে গত ৩১ জুলাই দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয় দেশটিতে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের জন্য ৫৫টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি দল সর্বত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছে। নবগঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন দেশব্যাপী ৩০০টিরও বেশি নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে সামরিকবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দখলে থাকা এলাকাগুলোও রয়েছে।

গত বছর, সেনা-সমর্থিত কর্র্তৃপক্ষ ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য দেশব্যাপী আদমশুমারি পরিচালনা করেছিল। তবে মিয়ানমারের ৩৩০টি শহরের মধ্যে মাত্র ১৪৫টিতেই স্থল জরিপ পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিল তারা। জান্তাবিরোধী দলগুলো বলছে, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে; আবার অনেক দল নিজেরাই অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই লোক দেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর আধিপত্যই দেখানো হবে; আর এর মাধ্যমে জান্তা তাদের ক্ষমতায় থাকা দীর্ঘায়িত করবে।

মিয়ানমারে সবশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। সেই নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। ক্ষমতা দখলের পর সামরিক সরকারের প্রধান হন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকার। গ্রেপ্তার হন সু চি ও তার দলের বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। এরপর থেকে দেশ জুড়ে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে জান্তা সরকার বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে, প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।