ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে নতুন যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির প্রথম ডেপুটি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সোমবার বলেছেন, জুনের যুদ্ধের পর যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা শুধু অস্থায়ী বিরতি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা কোনো যুদ্ধবিরতিতে নেই, বরং শত্রুতার সাময়িক বিরতিতে আছি। গত জুনে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহত হন এক হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে ছিলেন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা। এর পাল্টা জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলে বহু মানুষ হত্যা করে।’
গত ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বোমা হামলা চালায়। জবাবে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এরপর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১২ দিনের সেই সংঘাত বন্ধ হয়। এর আগে, গত রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহইয়া রাহিম সাফাভি বলেছিলেন, ‘আমরা এখনো যুদ্ধের অবস্থাতেই রয়েছি। যেকোনো সময় পরিস্থিতি ভেঙে পড়তে পারে। কোনো প্রোটোকল বা চুক্তি নেই। ইরান দাবি করছে, তারা যুদ্ধ চায় না। তবে নতুন কোনো আগ্রাসন ঠেকাতে প্রস্তুত। এর মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করেছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে, যা তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।’
জাতিসংঘের আণবিক সংস্থা জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে নির্ধারিত ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ সীমা বহুগুণ ছাড়িয়ে গেছে। আর ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। গত সপ্তাহে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করলে ২০১৫ সালের চুক্তির অধীনে তুলে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে। এ অবস্থায় ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকেও সরে আসতে পারে।