ম্যাচ জিতলে, হারলে কিংবা বাজে ট্যাকলের শিকার হলে নেইমারকে নিয়মিতই কাঁদতে দেখা যায়। এটা স্পষ্ট যে, আবেগ সংবরণ করতে পারেন না ব্রাজিল সুপারস্টার। সর্বশেষ গত রবিবার ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে ভাস্কোর বিপক্ষে ৬-০ গোলের লজ্জাজনক পরাজয়ের পর তিনি মাঠেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। নেইমারের এই শিশুসুলভ আচরণে বেজায় চটেছেন সান্তোসের সমর্থকেরা।
এমনিতেই হাফডজন গোল খাওয়ায় সান্তোসের সমর্থকদের মন খারাপ। তার ওপর নেইমারের কান্না তাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে দলটির অনুশীলন কেন্দ্র সিটি রেই পেলেতে প্রবেশ করে প্রতিবাদ জানায় একদল সমর্থক। তারা আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি সান্তোসের ম্যানেজমেন্ট ও স্কোয়াডের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ওই সময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন দলীয় তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ও ফুটবলের নির্বাহী পরিচালক আলেক্সান্দ্রে মাতোস।
সমর্থকদের এক নেতা নেইমারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি এই দলের সেরা তারকা, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তুমি যদি কাঁদো, তাহলে বাকিদের অবস্থা কী হবে! সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে অন্যরাও তাই করবে। মোরুম্বিতে ৫৫ হাজার দর্শকের সামনে এমন খেলাকে আমরা অপমান হিসেবে দেখছি। তোমাদের এই পারফরম্যান্স আমাদের সঙ্গে চরম মশকরা ছাড়া আর কিছু নয়। বাস্তবতা হলো, এটা তোমাদের গালে চপেটাঘাত!’
সমর্থকেরা এসময় কিছু স্লোগানও দেন— ‘সান্তোসকে সম্মান করো, বিশ্বের সেরা দল', ‘লজ্জাহীন একটা দল’ ও ‘মার্সেলো তিসেইরা (ক্লাব সভাপতি), তুমি দলটা নিয়ে মজা করছ’ ইত্যাদি। নেইমার এসময় উত্তেজিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পাল্টানোর চেষ্টা করছি’। তবে তার কথায় সমর্থকেরা থামেননি। একপর্যায়ে সামরিক পুলিশ মাঠে প্রবেশ করে দর্শকদের বের করে দেয়।
ভাস্কোর কাছে হারের পর প্রধান কোচ ক্লেবার হাভিয়েরকে বরখাস্ত করে সান্তোস। এখন তারা নতুন কোচ খুঁজছে। চলতি মৌসুমে ব্রাজিলিয়ান সিরি আতে মাত্র ৬টি ম্যাচ জিতেছে সান্তোস। ১৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় ২০ দলের মধ্যে তাদের অবস্থান ১৫তম। নেইমারের মতো তারকা থাকতেও দলের এই হাল মানতেই পারছেন না সমর্থকেরা। আগামী রবিবার ফন্তে নভায় তাদের প্রতিপক্ষ বাহিয়া।