গাজা দখলে ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা তলব!

গাজা সিটি দখলের জন্য একটি পরিকল্পিত স্থল অভিযানের জন্য প্রায় ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য, গাজা সিটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তবে মিসরের দেওয়া দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। সোমবারই এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে হামাস। যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংগঠনটি এখনো ইতিবাচক অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছে আরেক মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। এদিকে, গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার শিশু। গতকাল বুধবার অনাহারে গাজায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের হামলায় ২২ ত্রাণপ্রত্যাশীসহ ৫৬ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের একজন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে সামরিক দায়িত্বে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে অভিযানে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ সৈন্যই হবেন সামরিক বাহিনীর নিয়মিত সদস্য। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মঙ্গলবার এ অভিযান পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন এবং চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাইতুন এবং জাবালিয়া এলাকায় ইতিমধ্যে ইসরায়েলি সেনারা অভিযান পরিচালনা করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গাজা সিটির কয়েক লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দক্ষিণ গাজায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, মে মাসে শুরু হওয়া ‘অপারেশন গিডিয়নস চারিওটস’ অভিযানের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে ডাকার আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ইতিমধ্যে ডেকে পাঠানো ২০ হাজার রিজার্ভ সেনার বর্তমান আদেশের মেয়াদ বাড়ানো হবে। একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কমান্ডাররা গাজা সিটি ও এর আশপাশে একটি ‘ধীরে ধীরে’ এবং ‘সুনির্দিষ্ট’ অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তার মতে, এই অভিযানে পাঁচটি ডিভিশন অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের অনেক মিত্র দেশ এই পরিকল্পনার নিন্দা করেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সতর্ক করেছে যে, ২২ মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর আরেকটি বড় ধরনের অভিযান এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ‘ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়’ ডেকে আনবে। গত মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি-সংক্রান্ত পরোক্ষ আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ইসরায়েলি সরকার পুরো গাজা উপত্যকা দখলের ঘোষণা দেয়। অভিযান শুরুর আগেই আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তারা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় আটক থাকা প্রায় ৫০ জন জিম্মির মধ্যে অর্ধেককে মুক্তি দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন। হামাস সোমবার জানিয়েছে যে তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে ইসরায়েলও। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত ২০০ ফিলিস্তিনিসহ অনির্দিষ্টসংখ্যক নারী ও শিশুকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। বিনিময়ে ১০ জন জীবিত ও ১৮ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দেবে হামাস। দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চলাকালে গাজায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলবে বলেও জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।