পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরায় এখনো চড়া

দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। এতে করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এখনো এই নিত্যপণ্যটি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বেশি দামে কেনা পেঁয়াজ স্টকে থাকায় তা কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে। তাই দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আনতে পরিবহন খরচ, ধোলাই খরচ এবং কেনা দামের সঙ্গে যুক্ত হয়। এ ছাড়া প্রতি বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি পেঁয়াজ পচে যাওয়ার কারণেও খরচ বাড়ে। এসব বিবেচনায় খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়।

গত মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে দেখা গেছে, দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ বস্তাভর্তি সারিবদ্ধভাবে রাখা। তবে দেশি পেঁয়াজের তুলনায় ভারতীয় পেঁয়াজের পরিমাণ কম। পাইকারিতে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে।

পাইকাররা জানান, পাবনা ও ফরিদপুরের দেশি পেঁয়াজ এখন আড়তে পর্যাপ্ত রয়েছে। দাম কিছুটা কমায় খুচরা ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ বেশি কিনছেন।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে আমদানি হওয়া ভারতীয় পেঁয়াজ দেশির তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সীমিত আমদানিকারকদের পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজের দাম তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। হিলিতে আমদানিকারকরা প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন, অথচ ভারতীয় বাজারে এর দাম অর্ধেকের কিছু বেশি। হিলি থেকে চট্টগ্রামে আসার পর পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় দাম দেশি পেঁয়াজের চেয়ে বেশি হচ্ছে।’

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরীর খুচরা বাজারে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে দেশি পেঁয়াজ এখনো ৮৫-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আসকার দীঘিরপাড় কাঁচা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ দেখা যায়নি। স্থানীয় সুধীর গ্রোসারি স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুধীর দেব জানান, তার দোকানের পেঁয়াজ ৭৮ টাকা কেজি দরে কেনা, তাই ৮৫ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে পাইকারিতে ৭০ টাকা দরে পেঁয়াজ পাওয়া গেলে ৮০ টাকায় বিক্রি সম্ভব হবে।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘পণ্যের দাম বাড়ার খবরে খুচরা ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে দাম বাড়ান, কিন্তু দাম কমার খবরে তারা কমাতে চান না। এ কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের বড় পার্থক্য দেখা যায়। এ অসামঞ্জস্য দূর করতে প্রশাসনের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।’

দেশি পেঁয়াজের মজুদ কমায় চলতি মাসের শুরুতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। জুলাইয়ের শেষে ৫০-৫৫ টাকা কেজি ছিল, যা আগস্টের মাঝামাঝিতে ৭৫-৮০ টাকায় ওঠে। খুচরা বাজারে তা ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। এ পরিস্থিতিতে ১২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ১৪ আগস্ট সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম আমদানি হওয়া পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করে, এরপর থেকে দেশি পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে।