২১ আগস্ট মামলা

খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ৪ সেপ্টেম্বর

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আসামিদের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর রায় জানা যাবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত ছয় বিচারকের আপিল বিভাগ শুনানি শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করে। রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর গতকাল পঞ্চম কার্যদিবসে শুনানির পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এলো।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন), আপিল, জেল আপিল ও অন্যান্য আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট অধস্তন আদালতে ছয় বছর আগে দেওয়া রায় বাতিল করে। ফলে অধস্তন আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১৯ জন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৯ জনের সবাই খালাস পান। এরপর খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মে আপিলের অনুমতি পায় রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।

গত ১৭ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) থেকে শুনানি শুরু করে। এরপর ৩১ জুলাই দ্বিতীয় কর্মদিবসে, ১৯ আগস্ট তৃতীয় কর্মদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি শেষ করে। ২০ আগস্ট ও গতকাল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্যাহ আল মাহমুদ মাসুদ।

আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ২১ আগস্ট মামলায় অধস্তন আদালতের সাজার রায় বহালের আরজি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ ও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার আরজি জানায়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দলটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী মারা যান। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এক রায়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ- এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়। পরে হাইকোর্টের রায়ে সবাই খালাস পান।

এ মামলায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলে, দেশের ইতিহাসে এটি জঘন্য মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা আইভি রহমানসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। যারা মারা গেছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে তদন্ত হওয়া দরকার, যা এ মামলার ক্ষেত্রে এখনো সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। হাইকোর্ট বলে, অধস্তন আদালতে ছয় বছর আগে দেওয়া এ মামলার রায়টি ছিল অবৈধ এবং মুফতি হান্নানের দ্বিতীয়বার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া ছিল বেআইনি। হাইকোর্ট ন্যায়বিচার নিশ্চিতে মামলাটি যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত বলে অভিমত দেয়।