চলে গেলেন নয়া দিগন্তের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক

নয়া দিগন্তের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও বাসসের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য আলমগীর মহিউদ্দিন (৮৬) গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মরহুমের জানাজা বাদ মাগরিব রাজধানীর ফার্মগেটের মণিপুরীপাড়া কৃষি ল্যাবরেটরিজ মসজিদে হয়। পরে তার লাশ রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গত ৩০ মে বাসায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে কয়েক দিন পর তাকে বাসায় নেওয়া হয়। গত সপ্তাহে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি নির্বাক ও নিঃসাড় ছিলেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দেহে খনিজ অসমতা, সোডিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো এক বা একাধিক খনিজের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি অথবা ঘাটতি দেখা দেয়। এ ছাড়া তার ইউরিন, শ্বাসকষ্ট, ব্লাডপ্রেশার ওঠানামাসহ নানা সমস্যা ছিল বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক আলমগীর মহিউদ্দিন নাটোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওই বিশ^বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে আলমগীর মহিউদ্দিন দুই মেয়ের বাবা। তার বড় মেয়ে কানাডায় বসবাস করেন। চার বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। আলমগীর মহিউদ্দিন ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নয়া দিগন্তের সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি নিউ নেশন সম্পাদক ছিলেন। এরও আগে তিনি বাংলাদেশ টাইমসের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিগত আওয়ামী আমলে ১৬ বছর তার প্রতিষ্ঠান নয়া দিগন্তের পাশাপাশি তিনিও নানা বৈষম্য ও জুলুমের শিকার হয়েছেন। তার মৃত্যুতে নয়া দিগন্ত পরিবারসহ পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।